জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ ও শাখা ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।
ছাত্রদলের অভিযোগ, শাখা ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের টোকেন নম্বর বা ফোল্ডিং—যেখানে প্রত্যেক প্রার্থীর ব্যালেট নম্বর আছে, এই ব্যালেট নম্বর ভেতরে ঢুকছে। অপরদিকে শিবিরের দাবি, নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ধাওয়া–ধাওয়া এবং হুমকির অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। এর পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে অদম্য জবিয়ান ঐক্য সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দেন।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ানে’র ভিপি পদপ্রার্থী রাকিব বলেন, ‘আমরা সকালবেলা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দেখতে পাই, একটা নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর বা ফোল্ডিং—যেখানে প্রত্যেক প্রার্থীর ব্যালেট নম্বর আছে, এই ব্যালেট নম্বর ভেতরে ঢুকছে। অথচ নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্টভাবে বলাছিল যে, কোনো প্রার্থীর টোকেন নম্বর ক্যাম্পাসে ঢুকবে না। তাদের টোকেন ভোটকেন্দ্রেও পৌঁছে গেছে।’
এর আগে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা শঙ্কিত। ভোট গণনার সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয় কিনা, সেটা নিয়েও সংশয় আছে। যে পরিস্থিতি চলছে, তা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বড় ধরনের সংঘাত হতে পারে।’
ভোট গ্রহণের পাশাপাশি ভোট গণনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এই প্রার্থী। তাদের দাবি— নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে।
জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে সকাল ৯টা থেকে। চলবে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে ৩৯টি ভোটকেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে মোট ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পাশাপাশি একটি হল সংসদ নির্বাচনে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী ভোট দিচ্ছেন। বিকাল ৩টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, জকসুর বিভিন্ন পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৯ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৫ জন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫ জন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৪ জন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক পদে ৮ জন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৭ জন, পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ জন, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে ১০ জন, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৭ জন এবং ৭টি সদস্য পদের বিপরীতে মোট ৫৭ জন প্রার্থীর নাম রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









