The Daily Adin Logo
শিক্ষাঙ্গন

প্রকাশিত: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু, কড়া নজরদারি

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু, কড়া নজরদারি

সারাদেশে একযোগে কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। যেটি পদ বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় চাকরির পরীক্ষা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে দেশের ৬১ জেলায় শুরু হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষা। এতে অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি চাকরিপ্রার্থী।

নিয়োগ পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত ভাবে সম্পন্ন করতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কেন্দ্রগুলোর আশপাশে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। একসঙ্গে ৫ জনের চলাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, ডিভাইস শনাক্ত করতেও তৎপর রয়েছেন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ পুলিশ ও র‌্যাব।

কঠোর নজরদারি ও তৎপরতার মধ্যেও এ নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে প্রশ্নফাঁস চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে রংপুরসহ কয়েক জেলা থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দাবি করেছে, তারা প্রশ্নফাঁস নয়, ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন।

জানা যায়, সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘হিসাব সহকারী’ নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে পরীক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে নোটিশ দিয়ে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়।

হিসাব সহকারী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তুমুল সমালোচনার পর শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

চাকরিপ্রার্থী ও অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “সরকারি চাকরিতে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ হয় প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে। এবারও ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিতে তৎপর হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে সন্দেহ-সংশয় বেড়েছে।”

তাদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চপদে নির্বাচনের পর বড় রদবদল হবে। অধিকাংশ পদে পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য তড়িঘড়ি করে এ পরীক্ষা নিয়ে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করতে চায় অধিদপ্তর। এ কারণে নিয়োগে প্রভাব ও অনিয়মের আশঙ্কা করছেন প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসান।

তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপতথ্য বা মিথ্যা-ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। চক্রটি পরীক্ষা ভণ্ডুল করতে চেয়েছিল। আবার কেউ কেউ চেয়েছেন যে পরীক্ষাটা পিছিয়ে যাক, তাতে তাদের হয়তো লাভ হতো। চাকরির কোচিং করানো ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা এতে জড়িত।”

সামছুল আহসান আরও বলেন, “অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন কেন দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে? এর সহজ উত্তর হলো- আমাদের অসংখ্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট। প্রধান শিক্ষক পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। তখন আরও ৪০ হাজার সহকারী শিক্ষক পদ ফাঁকা হয়ে যাবে। আমাদের শিক্ষক প্রয়োজন। সেজন্য দ্রুত পরীক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রার্থী।

অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম ধাপে (রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে (ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ) ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.