বরগুনার আমতলী উপজেলার টিয়াখালী কলেজের ভবনে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (সিএনপিসি) খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান সামগ্রী সংরক্ষণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের কারণে গত আট দিন ধরে কলেজের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ উঠেছে, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খালেদ মোশাররফ সোহেল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশ অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে কোম্পানির লোকজনকে কলেজ ভবনের দুটি কক্ষ ব্যবহার করতে দিয়েছেন। পাশাপাশি খোলা পায়খানা ব্যবহারের ফলে কলেজ ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন আমতলী উপজেলায় খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে সার্ভের কাজ শুরু হলে এতে প্রায় ৩৫০ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক অংশ নিচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী শুরুতে কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু সাঁটিয়ে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দিলেও কলেজ ভবন ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেননি। কিন্তু ইউএনওর নির্দেশ উপেক্ষা করে কলেজ ভবনের নিচতলা ও চতুর্থতলায় কোম্পানির অনুসন্ধান সামগ্রী রাখা হয় এবং সেখানে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বসবাস শুরু করেন।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী উপস্থিত নেই। চারতলা ভবনের দুটি তলায় অনুসন্ধান সামগ্রী রাখা হয়েছে এবং ভবনের ভেতরেই কোম্পানির লোকজন অবস্থান করছেন। খোলা পায়খানা ব্যবহারের কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজ ভবনে কোম্পানির মালামাল রাখা ও লোকজন বসবাস করায় গত আট দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ফলে তারা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. আরজ আলী বলেন, আমি পাঁচ দিন আগে এখানে যোগ দিয়েছি। তবে শুনেছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু সাঁটিয়ে থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে টিয়াখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খালেদ মোশাররফ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিউজ করতে চান নিউজ করেন, দেখি তাতে আমার কী হয়?-এই কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, চায়না পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের লোকজনকে কলেজের বাইরে তাবু সাঁটিয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজ ভবন ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাঠদান বন্ধ করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাওছার/ন্যাশনাল/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









