ব্যাংকের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ‘কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট’ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহাদাত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সনদ উত্তোলনের জন্য নির্ধারিত ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দিয়ে সে সংক্রান্ত রশিদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে জমা দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা সনদ উত্তোলন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে আসলে অভিযুক্ত সুকৌশলে তাদের থেকে টাকা নিয়ে তিনিই জমা দিয়ে দেবেন বলে জানাতেন এবং নির্ধারিত সময়ে সনদ প্রদানের বিষয়েও আশ্বাস দিতেন। কিন্তু তিনি সে টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে টাকা জমা সংক্রান্ত নকল সীল ব্যবহার করে সে টাকা আত্মসাৎ করতেন।
জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের এ প্রক্রিয়া চলতে থাকলেও বিপত্তি বাঁধে এক শিক্ষার্থীর সন্দেহ থেকে। সনদ উত্তোলনের জন্য ওশানোগ্রাফী বিভাগের এক শিক্ষার্থী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গেলে সনদ উত্তোলন ফি- ২ হাজার টাকা তিনি জমা দিবেন বলে সুকৌশলে নিজের কাছে নেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীর সন্দেহ হলে তিনি অফিসের অন্যান্য স্টাফদের ঘটনার বিস্তারিত জানান, পরবর্তীতে তারা ব্যাংক একাউন্ট চেক করে দেখেন ওই তারিখে ব্যাংক টাকা গ্রহণ সংক্রান্ত রশিদ থাকলেও ব্যাংক একাউন্টে কোনো টাকা জমা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে এই জালিয়াতি চললেও গত ১৪ এপ্রিল একটি সামান্য বানানের অসংগতিতে ফাঁস হয়ে যায় সব রহস্য। অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখার আসল সিলে ইংরেজি অক্ষরে ‘Cash Receive’ লেখা থাকলেও, শাহাদাতের তৈরিকৃত নকল সিলে লেখা ছিল ‘Cash Received’। রসিদে ইংরেজি শব্দের এই সামান্য অসংগতি একই দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে এলে বেরিয়ে আসে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। এরপরই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে আসে এ সংক্রান্ত গত ৩ মাসে করা তার আর্থিক জালিয়াতির তথ্য।
এই জালিয়াতিতে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি রসিদ শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে নকল সিল ব্যবহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অল্প সময়ে তার এই জালিয়াতি ধরা পড়ায় টাকার অংক বড় হয়নি। এদিকে এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ঐ কর্মচারীকে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগ অফিসে বদলি করা হয়েছে। এছাড়াও আত্মসাৎ করা টাকাও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অন্যদিকে এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেজিস্টার তামজিদ হোসাইন সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সনদ উত্তোলন সংক্রান্ত ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে টাকা জমার গ্রহণ সংক্রান্ত নকল সীল তৈরিপূর্বক জালিয়াতি ও অন্যান্য বিষয় তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের লক্ষ্যে নিম্নোক্ত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
এতে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক, হিসাব পরিচালক দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্টার মো. হুমায়ুন কবিরকে সদস্য এবং কাউন্সিল শাখার ডেপুটি রেজিস্টার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের কন্ট্রোলার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









