ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’ সিনেমাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সমালোচনা ও নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে মুখ খুলেছেন ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। তার দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে বাংলা সিনেমার অগ্রগতি থামিয়ে দিতে চাইছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাতে রাজধানীর উত্তরার স্টার সিনেপ্লেক্স-এ সিনেমাটির প্রচারণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
শাকিব খান বলেন, একটি সিনেমা মুক্তির পর প্রশংসা ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ‘রকস্টার’-এর ক্ষেত্রে কেবল নেতিবাচক মন্তব্যগুলোই বেছে বেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, যা তাকে বিস্মিত করেছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু নেগেটিভ রিভিউগুলোই সামনে আনা হলো? এই আক্ষেপ কার প্রতি—তার ব্যক্তিগতভাবে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রতি, নাকি পুরো বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে—তা তিনি বুঝতে পারছেন না।
তার মতে, যখন বাংলা সিনেমা নতুন গল্প, নির্মাণশৈলী ও উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে, তখনই একটি গোষ্ঠী সেটিকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শাকিব খানের ভাষায়, “কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চায় না বাংলা সিনেমার উন্নতি হোক। তারা চায় দর্শক আগের মতোই পুরোনো ধাঁচের গল্প আর চেনা ছকের অ্যাকশনেই আটকে থাকুক। কিন্তু সময় বদলেছে, দর্শকের রুচিও বদলেছে। বাংলা সিনেমাও এখন নতুন পথে এগোচ্ছে।”
দীর্ঘ ২৭ বছরের ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সময়ে তাকে নানা সমালোচনা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার মতে, চলচ্চিত্রে শীর্ষে ওঠা যেমন কঠিন, তেমনি সেখানে টিকে থাকাও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নেতিবাচক প্রচারণাকে তিনি পেশাগত জীবনেরই অংশ হিসেবে দেখেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট নিয়েও মন্তব্য করেন এই অভিনেতা। তার অভিযোগ, কিছু কনটেন্ট নির্মাতা সাময়িক জনপ্রিয়তা ও ভিউয়ের জন্য বিভ্রান্তিকর বা নেতিবাচক তথ্য ছড়ান। তবে শেষ পর্যন্ত দর্শকরাই সঠিক বিচার করেন বলে বিশ্বাস তার।
তিনি আরও জানান, মুক্তির দ্বিতীয় দিন থেকেই সিনেমা হলে দর্শকের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে। তার মতে, এটিই প্রমাণ করে—শেষ পর্যন্ত ভালো কাজই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়, আর সত্যকে দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায় না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









