হলিউডের দুই কিংবদন্তি তারকা ব্রুস উইলিস ও জন ট্রাভোল্টা। একসময় তাদের উপস্থিতিই মানেই ছিল বক্স অফিস নিশ্চিত সাফল্য। তবে ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া তাদের অ্যাকশন থ্রিলার ‘প্যারাডাইস সিটি’ মুক্তির পর তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। কিন্তু সময় যেন ছবিটির জন্য নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে। নেটফ্লিক্সে মুক্তির পর পরই ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দেখা সিনেমার তালিকায় উঠে এসেছে, ফলে আবারও আলোচনায় ফিরেছেন এই দুই হলিউড অ্যাকশান তারকা।
চাক রাসেল পরিচালিত ‘প্যারাডাইস সিটি’–এর চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিজেই, সঙ্গে ছিলেন কোরি লার্জ ও এডওয়ার্ড জন ড্রেক।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ইয়ান সোয়ান, একজন অভিজ্ঞ বাউন্টি হান্টার। হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের উপকূলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। সবাই ধরে নেয়, তিনি আর বেঁচে নেই।
কিন্তু বাবার অন্তর্ধান মেনে নিতে পারেন না তার ছেলে রায়ান। বাবার সাবেক সহযোগী ও স্থানীয় এক গোয়েন্দাকে নিয়ে তিনি শুরু করেন তদন্ত। সেই অনুসন্ধান ধীরে ধীরে তাদের নিয়ে যায় এক প্রভাবশালী অপরাধচক্রের মুখোমুখি। এরপর ঘটনার মোড় ঘুরে পৌঁছে যায় রহস্যময় ও সুরক্ষিত একটি এলাকা—প্যারাডাইস সিটি।
ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে ব্রুস উইলিস ও জন ট্রাভোল্টার পুনর্মিলন। ১৯৯৪ সালের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘পাল্প ফিকশন’-এর পর তাদের একপর্দায় দেখতে পাওয়াই দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার কোরি লার্জ ২০০৬ সালেই দুই অভিনেতাকে নিয়ে নতুন একটি ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির ঘোষণা আসে ২০২১ সালে।
সেই বছরের ১৭ মে হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপে শুরু হয় শুটিং। মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয় পুরো কাজ।
মাউই কাউন্টির ফিল্ম কমিশনার ট্রেসি বেনেট জানিয়েছিলেন, সময় ও লোকেশনের সীমাবদ্ধতার কারণে শুটিং চলাকালেই নির্মাতাদের বারবার চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল।
‘প্যারাডাইস সিটি’ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আরেকটি কারণে। এটি ব্রুস উইলিসের অভিনয়জীবনের শেষ দিকের চলচ্চিত্রগুলোর একটি। স্বাস্থ্যগত কারণে অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার আগে এটিই ছিল তার শেষ কয়েকটি কাজের অন্যতম।
২০২২ সালের ১১ নভেম্বর সীমিত আকারে প্রেক্ষাগৃহ এবং অন-ডিমান্ড প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায় ছবিটি।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। তবে ভ্যারাইটি-র সমালোচক ওয়েন গ্লেইবারম্যান লিখেছিলেন, ব্রুস উইলিস, জন ট্রাভোল্টা ও স্টিফেন ডরফ—তিনজনকেই তাঁদের চরিত্রে স্বাচ্ছন্দ্য ও উপভোগ করতে দেখা যায়। অন্য অনেক সমালোচকও ছবিটির প্রধান শক্তি হিসেবে তারকাদের পর্দা-উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্বের কথাই উল্লেখ করেছেন।
মুক্তির সময় খুব বেশি দর্শকের নজর কাড়তে না পারলেও, নেটফ্লিক্সে আসার পর থেকে ‘প্যারাডাইস সিটি’ যেন দ্বিতীয় জীবন ফিরে পেয়েছে। নতুন প্রজন্মের দর্শক যেমন ছবিটি আবিষ্কার করছেন, তেমনি ব্রুস উইলিস ও জন ট্রাভোল্টার ভক্তদের কাছেও এটি আবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









