রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ ১৫ অক্টোবর মুক্তি পেয়েছে এবং দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া ও বেশির ভাগ ইতিবাচক রিভিউ পেয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত ছবিটি ভারতীয় বক্স অফিসে ৫০ কোটি রুপির বেশি নিট আয় করতে চলেছে। এই সপ্তাহে ‘জেলার ২’র সঙ্গে বক্স অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা একমাত্র বড় দক্ষিণী ছবি হলো বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা অভিনীত ‘রণবালী’।
১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে ‘রণবালী’। জেলার ২ যেখানে একটি বাণিজ্যিক বিনোদনধর্মী ছবি, সেখানে এই তেলুগু ছবিটি ১৮৭৬-৭৮ সালের মহা মাদ্রাজ দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক নাটক।
দুটি ছবির ঘরানা সম্পূর্ণ আলাদা হলেও ফিল্ম ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, রজনীকান্তের তারকাখ্যাতি ‘রণবালী’র ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাহলে পরিচালক রাহুল সাংকৃত্যায়নের এই ঐতিহাসিক ফ্যান্টাসি ছবির অগ্রিম বুকিংয়ের চিত্র এ মুহূর্তে কেমন?
স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবরের জন্য রণবালী’র অগ্রিম বুকিং সবচেয়ে ভালো তেলুগুভাষী রাজ্যগুলোতে, যেখানে সংগ্রহ ৩.২৩ কোটি রুপি। শহরগুলোর মধ্যে হায়দরাবাদ এগিয়ে, ১.১৭ কোটি রুপি নিয়ে। এরপর কর্ণাটকে সংগ্রহ ২৭.২৬ লাখ রুপি, আর মুক্তির প্রথম দিনের জন্য তামিলনাড়ুতে সংগ্রহ মাত্র ৩.৭৯ লাখ রুপি। মুক্তির দিন অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায় ছবিটির ১,৮৩৭টি শো নির্ধারিত রয়েছে, কর্ণাটকে ২৫২টি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনডিটিভিকে একজন ফিল্ম ট্রেড বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘ছবির পরিসর, তারকাখ্যাতি এবং বিশেষ করে বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার ব্যাপক প্রচারের কথা বিবেচনা করলে রণবালী’র কম অগ্রিম বুকিং যথেষ্ট উদ্বেগজনক।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘জেলার ২’র প্রবল জোয়ার এবং ছবির প্রচারমূলক কনটেন্টে তাগিদ তৈরির মতো জোরালো উপাদানের অভাবের কারণে সম্ভবত দর্শকেরা ‘আগে দেখি, পরে ঠিক করব’ নীতি নিয়েছেন। বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার মতো জনপ্রিয় তারকা থাকা সত্ত্বেও বুকিং কম। তাই মুক্তির পর ছবিটি এখন অনেকটাই স্পট বুকিং ও ইতিবাচক মুখে মুখে প্রচারের ওপর নির্ভর করছে।’’
‘অর্জুন রেড্ডি’ খ্যাত এই অভিনেতা প্রেক্ষাগৃহে আগের গতি ফিরে পান কি না, বিশেষ করে রাশমিকার সঙ্গে জুটিতে, ১৬ অক্টোবরের মুক্তি তার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ২০১৮ সালে গীতা গোবিন্দম-এ এই জুটি ব্লকবাস্টার উপহার দিয়েছিল, তবে তাদের পরবর্তী ছবি ‘ডিয়ার কমরেড’ (২০১৯) বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি।
মহামারির পর থেকে একক নায়ক হিসেবে বিজয়ের ঝুলিতে বড় কোনও হিট নেই। রণবালী’র জন্য সম্প্রতি এক দর্শক-মিলনমেলায় তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন বলি, তখন আমি জোরেশোরেই ফিরব।’’
তিনি স্মরণ করেন, ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন এবং সমালোচকদের বলেন, তিনি নিজের শর্তেই ফিরবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রণবালী তেলুগু চলচ্চিত্র শিল্পকে গর্বিত করবে, আর সব ঠিকঠাক চললে সমালোচকদের তিনি আবার সেই কথাটি মনে করিয়ে দেবেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছবিটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমের কিছু নেতিবাচক মন্তব্য একটি সংগঠিত প্রচারণার অংশ বলেও অভিযোগ করেছেন বিজয়।
পুরো দলটি সম্ভবত বেশ কয়েকটি কারণে আশা করছে, রণবালী দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। প্রথমত, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ের পর এটি বিজয় ও রাশমিকার প্রথম একসঙ্গে অভিনীত ছবি। দ্বিতীয়ত, এর আগের ছবিগুলোতে এই দম্পতির পর্দার রসায়ন, বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানায়, দর্শকদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
তৃতীয়ত, দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ যে দুর্দশা সহ্য করেছিল, সেই কারণে ছবির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আরও ব্যাপক আবেগী আবেদন তৈরি করতে পারে। চতুর্থত, রশ্মিকার চরিত্র জয়াম্মা ছবির আবেগী আবেদনের কেন্দ্রে রয়েছে বলে জানা গেছে, এবং রণবালীর সঙ্গে তার প্রেমকাহিনি বিজয়ের ভক্তদের বাইরের দর্শকদেরও টানতে পারে।
তেলুগু ছবিটির কম অগ্রিম বুকিং নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জোর আলোচনা চলছে, অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ২০২৩ সালের আগস্টে চিরঞ্জীবীর ‘ভোলা শঙ্কর’ ও ‘জেলার’-এর একই সময়ে মুক্তির ঘটনাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তেলুগু ছবিটি শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে মাত্র ৫০ কোটি রুপির মতো আয় করেছিল।
‘জেলার ২’ তেলুগুভাষী রাজ্যগুলোতেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। তাই অনেক নেটিজেনের বিশ্বাস, রণবালীকে বক্স অফিসে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে।
জেলার ২-এর যেখানে সর্বভারতীয় আবেদন রয়েছে, সেখানে বিজয় দেবেরাকোন্ডার ছবিটিকে অনেকটাই নির্ভর করতে হবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার ব্যবসার ওপর। এখন সবার নজর শুক্রবার রণবালী’র মুক্তির দিকে এবং ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায় কি না, সেদিকে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









