আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্র পরিচালক মারিয়ানো লিনিয়াস কথা বলেছেন তার বহুরূপী, আত্মসচেতন ও রসিকতায় ভরা চলচ্চিত্র নিয়ে। বিখ্যাত লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের জীবনকে তিনি এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যেখানে জীবনী, কল্পনা, অনুসন্ধান ও গল্প বলার প্রক্রিয়া পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়।
আধুনিক চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে আর্জেন্টিনার মারিয়ানো লিনিয়াসকে বোর্হেসের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ উত্তরসূরিদের একজন বলা যায়। লাইফ অব হোর্হে লুইস বোর্হেস নির্মাণ করে তিনি যেন সেই প্রভাবের বৃত্তটি পূর্ণ করেছেন। তিন পর্বে নির্মিত, মোট ৩২৩ মিনিটের এই জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্রে তিনি এমন এক লেখকের জীবন অনুসন্ধান করেছেন, যিনি নিজেই নিজের জীবনকে ঘিরে কিংবদন্তি তৈরি করেছিলেন। ছবির বয়ানও তাই সরল পথে এগোয় না। প্রচলিত তথ্য, ব্যক্তিগত স্মৃতি, আত্মনির্মিত মিথ ও কল্পনার মধ্যে দিয়ে তা ক্রমাগত নতুন পথ খুঁজে নেয়।
লিনিয়াস আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্র-সমষ্টি এল পাম্পেরো সিনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। সাহিত্যমনস্ক এই পরিচালকেরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এমন সব দীর্ঘ চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, যেগুলো প্রচলিত চলচ্চিত্রের সীমা মানতে চায় না। তাঁদের ছবিতে সিনেমা ও সাহিত্যের অতীত যেন নতুন করে প্রাণ পায়। লিনিয়াসের ২০১৮ সালের চলচ্চিত্র লা ফ্লোর এর উজ্জ্বল উদাহরণ। ৮৬৮ মিনিটের ছবিটি কাহিনিচিত্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম চলচ্চিত্রগুলোর একটি। তার সিনেমা যেন নিজের নিয়মে বেড়ে ওঠে, শ্বাস নেয়, আবার নতুন করে জন্মায়। গল্প বলার প্রক্রিয়াটি সেখানে কোনো আগাম ছকে বাঁধা নয়; বরং চলতে চলতেই তার নিজস্ব যুক্তি তৈরি করে।
নিউইয়র্কের ইনস্টিটিউট ফর স্টাডিজ অন লাতিন আমেরিকান আর্ট বোর্হেস-সম্পর্কিত কিছু নতুন সংগৃহীত নথি ও সামগ্রী নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের দায়িত্ব দিয়েছিল লিনিয়াসকে। কিন্তু কাজ শুরু করার পর তিনি যথারীতি সেই সীমিত দায়িত্বের বাইরে চলে যান। নথিপত্রের সংরক্ষণ ও পরিচিতির বদলে তিনি এমন একটি চলচ্চিত্রের কথা ভাবতে শুরু করেন, যা বোর্হেসের কোনো আত্মসচেতন কল্পকাহিনির মতোই নিজের নির্মাণপ্রক্রিয়াকে গল্পের অংশ করে তুলবে। এটি হবে জীবনী, আবার জীবনী নির্মাণের গল্পও।
ছবিতে দেখা যায়, লিনিয়াস ও তার সহযাত্রী আর্নেস্তো মন্তেকিন বোর্হেসের চিঠি, আঁকা ছবি, খসড়া ও কবিতার স্তূপ ঘাঁটছেন। মন্তেকিন বোর্হেস-গবেষক; প্রাণচঞ্চল পরিচালকের পাশে তাকে দেখা যায় সংযত, নিয়মনিষ্ঠ সঙ্গীর ভূমিকায়। কিন্তু তাঁদের কাজ শুধু কাগজপত্র পরীক্ষা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নথিতে পাওয়া সূত্র ধরে তারা ছুটে যান বোর্হেসের জীবনের সঙ্গে যুক্ত নানা শহরে—কখনো যেখানে তিনি থেকেছেন, কখনো যেখানে গেছেন, আবার কখনো যে জায়গার নাম তাঁর লেখায় এক-দুবার এসেছে।
ফলে ছবিটি এক অদ্ভুত অভিযাত্রায় পরিণত হয়। জেনেভা, অস্টিন, রেইকিয়াভিকসহ নানা স্থানে যাওয়ার পর একটি সূত্র আরেকটি সূত্রের জন্ম দেয়। মূল অনুসন্ধান থেকে বেরিয়ে আসে অসংখ্য পার্শ্বকাহিনি। তবু ছবিটি তার কেন্দ্রীয় মানুষটিকে হারায় না। একই সঙ্গে বোর্হেসের জীবনের শেষ পর্বে প্রকাশিত তার কিছু অস্বস্তিকর সামাজিক ও রাজনৈতিক মতামতও এড়িয়ে যায় না। একদিকে এটি এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের বহুরূপী প্রতিকৃতি, অন্যদিকে জীবনী নির্মাণের প্রকৃতি নিয়ে এক আত্মসচেতন প্রবন্ধ। ছবিটি শেষ পর্যন্ত সেই পুরোনো সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়— গন্তব্যের চেয়ে যাত্রাটিই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘লাইফ অব হোর্হে লুইস বোর্হেস’–এর উদ্বোধনী প্রদর্শনীর পর আমি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলি। আলোচনার বিষয় ছিল সেই দীর্ঘ, আঁকাবাঁকা পথ—প্রভাব, আকস্মিক আবিষ্কার ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত—যার মধ্য দিয়ে ছবিটি তার নিজস্ব, সহজে শ্রেণিবদ্ধ করা যায় না এমন রূপ পেয়েছে। ছবিটি নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবে ২৬ ও ২৮ সেপ্টেম্বর প্রদর্শিত হয়।

প্রশ্ন: বোর্হেসকে ঘিরে আপনার প্রথম স্মৃতিটি কী? তাকে প্রথম কখন আবিষ্কার করেছিলেন, কিংবা তার কোন গল্পটি প্রথম পড়েছিলেন, মনে আছে?
মারিয়ানো লিনিয়াস: আমি একটি নির্দিষ্ট স্মৃতি বেছে নিয়েছি। কারণ, এই প্রশ্নের মুখোমুখি আমাকে আগেও অনেকবার হতে হয়েছে [হাসি]। তাই স্মৃতিটি সত্য কি না, সে ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নই। তবে আমার মনে হয়, বোর্হেসের প্রথম যে বইটি পড়েছিলাম, সেটি আ ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি অব ইনফেমি। অন্য কিছু পড়েও থাকতে পারি। কিন্তু মনে পড়ে, তেরো বা চৌদ্দ বছর বয়সে বইটি পড়েছিলাম এবং খুব ভালো লেগেছিল।
প্রশ্ন: বোর্হেসের এই বিশেষ নথিসংগ্রহ নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব পেলেন কীভাবে?
লিনিয়াস: সংগ্রহটি নিউইয়র্কের একটি ফাউন্ডেশন থেকে আরেকটি ফাউন্ডেশনে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। সেই স্থানান্তরের একটি নথি রাখার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, মন্তেকিন কীভাবে নথিগুলো পরীক্ষা করছেন, সেটিও ধারণ করার কথা ছিল।
ছবিতে মনে হতে পারে, মন্তেকিন আর আমার এই প্রথম পরিচয়। আসলে তা নয়। আমি তাকে আগে থেকেই চিনতাম। কিন্তু যখন দেখলাম, তিনি কাগজপত্র, পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য সামগ্রী কীভাবে হাতে নিচ্ছেন, কীভাবে সেগুলো পরীক্ষা করছেন, তখনই বুঝলাম, এই কাজের মধ্যে আরও বড় কিছু আছে। এটি নিছক কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য নথি সংরক্ষণের কাজ নয়। এর মধ্যে এমন একটি সম্ভাবনা আছে, যা আগে কেউ কাজে লাগায়নি—বোর্হেসের একটি প্রকৃত জীবনী নির্মাণের সম্ভাবনা।
অবশ্য, সে জন্য আমাদের ওপর দেওয়া মূল দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করতে হতো। বলতে গেলে, আমাদের নির্দেশ অমান্য করেই এগোতে হতো।
প্রশ্ন: শুরুতে কাজটির পরিকল্পনা কী ছিল?
লিনিয়াস: খুব সহজ। মন্তেকিন ও নথিপত্রের দৃশ্য ধারণ করব, তারপর ফিরে গিয়ে একটি ছোট চলচ্চিত্র বানাব। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে এমন কিছু সামনে এল, যা আমাদের পরিকল্পনায় ছিল না। কাগজপত্রের ভেতর থেকেই যেন একটি গল্প বেরিয়ে এল।
আমরা বাইরে থেকে কোনো কৌশল চাপিয়ে দিয়ে নথিগুলোকে গল্পে পরিণত করিনি। গল্পটি নথির ভেতর থেকেই উঠে এসেছিল।
প্রশ্ন: মন্তেকিনের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের কথা জানতে চাই। আপনি বললেন, ছবিতে মনে হয় আপনাদের সদ্য পরিচয় হয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আপনাদের দুজনকে এক ধরনের অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়।
লিনিয়াস: আমি বলব, আমরা আসলে তিনজন। চিত্রগ্রাহক আগুস্তিন মেন্দিলাহারসুও আছেন। তাকে পর্দায় দেখা যায় না, কিন্তু তিনিই তো সারাক্ষণ আমাদের ধারণ করছেন।
প্রশ্ন: এক জায়গায় আপনি মন্তেকিন ও নিজেকে শার্লক হোমস এবং ডক্টর ওয়াটসনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
লিনিয়াস: হ্যাঁ, ঠিক। তাহলে আগুস্তিনকে বলতে হয় আর্থার কোনান ডয়েল! (হাসি)
আমি তুলনাটা করেছি, কারণ আমার কাছে মন্তেকিন পর্দায় দেখা সেরা শার্লক হোমসদের একজন। ভালো শার্লক হোমসের সংখ্যা এমনিতেই খুব বেশি নয়। অবশ্যই বেসিল র্যাথবোন আছেন, হয়তো পিটার কাশিংও। আমি মন্তেকিনকে তৃতীয় স্থানে রাখব।
আর আমি নিজেও মন্দ ওয়াটসন নই। তবে আকারে একটু বড় হয়ে গেছি, এই যা! (হাসি)
প্রশ্ন: ছবিটি নির্মাণের সময় আপনাদের সম্পর্ক কীভাবে বদলেছে? এক জায়গায় আপনার বর্ণনায় পরস্পরের প্রতি কিছুটা বিরক্তি ও অস্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
লিনিয়াস: প্রথম যখন তাকে বললাম, আমরা বোর্হেসকে নিয়ে একটি ছবি বানাব এবং তাতে তাকে অংশ নিতে হবে, তিনি বললেন, ‘না, দয়া করে আমাকে এসব করতে বলবেন না।’
আমি বললাম, ‘মাত্র এক দিন। চিন্তা করবেন না।’
আমার ধারণা ছিল, এটি টিকা নেওয়ার মতো ব্যাপার হবে। তিনি টেরই পাবেন না, কোনো অস্বস্তিও হবে না।
শুরুতে তিনি যে বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন, তা ছবির প্রথম দিকের দৃশ্যগুলোতেই বোঝা যায়। গাড়িতে বসে থাকার সময় তার মধ্যে সেই অস্বস্তি স্পষ্ট। কিন্তু ঘরে ঢুকে যখন তিনি নথি ও বস্তুগুলো হাতে নিতে শুরু করলেন, তখন যেন তার মধ্যে আলো জ্বলে উঠল। তিনি কথা বলতে শুরু করলেন, নিজের একটি চরিত্র গড়ে তুললেন।
আমার মনে হয়, তিনি বেশ বুদ্ধিমান মানুষ। বুঝে গিয়েছিলেন, পর্দায় তিনি তারকা হয়ে উঠেছেন। শুধু আমি নই, আমরা সবাই তা বুঝতে পেরেছিলাম। তার মধ্যে তারকার স্বাভাবিক গুণ আছে।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে মঞ্চের ওপর তাকে দেখলে বুঝতে পারতেন। তিনি যেন জন ব্যারিমোর! মনে হচ্ছিল, অভিনয়ের জন্যই তার জন্ম। তাকে হলিউডে ডাকা উচিত—সেই পুরোনো হলিউডে। প্রয়োজনে টাইম মেশিনে করে তাকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হোক।
তবে আমাদের সম্পর্ক ভালোই। আপনি হয়তো আমার ২০২৪ সালের ছবি দ্য ট্রিপটিক অব মন্দোঙ্গো দেখেছেন। সেটি মন্দোঙ্গো শিল্পীগোষ্ঠীকে নিয়ে নির্মিত। ওই ছবির মানুষদের সঙ্গে আমার বেশ সংঘাত হয়েছিল। ছবিটি দুঃখজনক, কারণ সেই সংঘাতের শেষ শান্তিপূর্ণ হয়নি।
এই ছবিতে আমি চাইনি তেমন কিছু ঘটুক। তাই চেয়েছিলাম, মন্তেকিন যেন শুরু থেকেই সবকিছু জানেন। আমরা কী করতে চাই, কেন করতে চাই, কোন কৌশল ব্যবহার করব—সবকিছু সম্পর্কে তিনি যেন সচেতন থাকেন। আমি তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন: নথিসংগ্রহে এমন কোনো একটি জিনিস কি পেয়েছিলেন, যা ছবিটিকে বড় পরিসরে ভাবতে সাহায্য করেছিল?
লিনিয়াস: একটি নির্দিষ্ট জিনিস নয়, বরং জিনিসগুলোর বৈচিত্র্যই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। এক মুহূর্তে আপনি হাতে নিচ্ছেন অমূল্য কোনো পাণ্ডুলিপি, পরের মুহূর্তে পেয়ে যাচ্ছেন ছোট্ট একটি পোস্টকার্ড কিংবা সিনেমার টিকিট—কোনো মানুষের পকেট থেকে বেরিয়ে আসা তুচ্ছ বস্তু।
আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছিল, এত ভিন্ন মানের জিনিস একই সংগ্রহে পাশাপাশি থাকতে পারে। বোর্হেসের জীবনকে বোঝাতে পারে যেমন একটি দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, তেমনি একটি সামান্য মুদ্রাও।
তার বিখ্যাত গল্প দ্য আলেফ–এ এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কথক সমগ্র মহাবিশ্বকে এক বিন্দুতে দেখতে পান। এরপর তিনি বলেন, এখন এসেছে গল্প বলার সবচেয়ে কঠিন, প্রায় অসম্ভব কাজটি—যা দেখেছি, তা ভাষায় বর্ণনা করতে হবে।
তারপর তিনি বর্ণনা করতে থাকেন পৃথিবীর সব আয়না, ছুটে চলা ঘোড়া, আবার নিজের রক্ত ও অন্ত্রের কথাও। বিশাল আর ক্ষুদ্র—দুই-ই সেখানে জায়গা পায়।
নথিসংগ্রহটি দেখতে গিয়ে বুঝলাম, আমাদের কাছেও তেমন উপাদান আছে। বড় জিনিসও আছে, ছোট জিনিসও আছে। দুটিই বোর্হেসের জীবনকে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনার গল্প বলার ধরনকে প্রায়ই বোর্হেসের লেখার সঙ্গে তুলনা করা হয়। চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় এই তুলনাটি কতটা সচেতনভাবে মনে রাখেন? আর এই তুলনা কি কখনো আপনাকে বোর্হেসকে নিয়ে ছবি বানাতে নিরুৎসাহিত করেছিল?
লিনিয়াস: সত্যি বলতে, আমি কখনো ভাবিনি যে এই প্রকল্পে হাত দেব। মনে হতো, এত দিন যে মুখোশ পরে এসেছি, এবার বুঝি তা খুলে ফেলতে হবে। সবাই বলবে, আমি সারা জীবন বোর্হেসের নকল করেছি।
এটাও সত্যি, আমি বা এল পাম্পেরো যদি কোনো কিছুর জন্য পরিচিত হয়ে থাকি, তা হলো গল্প বলার প্রবণতা। গল্প তৈরি করা, গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়া, আবার সেখান থেকে নতুন গল্প বের করে আনা। এসবের অনেক কিছুই এসেছে বোর্হেসের কাছ থেকে।
প্রশ্ন: সচেতনভাবে, নাকি অজান্তে?
লিনিয়াস: কিছু হয়তো অজান্তে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশই সচেতনভাবে। একে বলা যায় সশস্ত্র ডাকাতি! [হাসি]
তবে বোর্হেস এ ব্যাপারে উদার ছিলেন। তিনি অন্যকে শেখাতেন। তার একটি বইয়ের ভূমিকায় তিনি বলেছিলেন, অর্থটা এমন: জীবন তাকে কিছু কৌশল শিখিয়েছে। তারপর তিনি সেই কৌশলগুলো পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন।
যেমন, কীভাবে একটি ছোট গল্পকে আরও বড়, আরও জটিল ও বিস্তৃত করে তোলা যায়। আমি সেই কৌশলগুলো নিয়েছি। আমার মনে হয়, বোর্হেসের মতো কেউ যদি তার জানা কৌশল আমাদের দিয়ে যান, তবে সেগুলো গ্রহণ করা উচিত।
প্রশ্ন: ছবির একটি দৃশ্য আমার খুব ভালো লেগেছে। সেখানে আপনি দেখিয়েছেন, বোর্হেস বাক্য সংশোধন করতেন, বন্ধনীর মধ্যে কথা ঢোকাতেন, মূল বক্তব্যের পাশে নানা মন্তব্য জুড়ে দিতেন। আপনি এসবের সঙ্গে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন টেকের তুলনা করেছেন।
লিনিয়াস: ভেবে দেখলে, সাহিত্যের তুলনায় চলচ্চিত্রের হাতে প্রকাশের উপায় খুব বেশি নেই। তবে একটি ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র অসাধারণ—সংঘর্ষ, সহিংসতা ও যুদ্ধ দেখানোর ক্ষেত্রে।
গ্রিফিথ বা আইজেনস্টাইনের যুদ্ধের দৃশ্যের কথা ভাবুন। তাদের আগে কেউ এভাবে যুদ্ধ দেখায়নি। সের্গেই আইজেনস্টাইনের আলেকজান্ডার নেভস্কি (১৯৩৮) ছবিতে দেখবেন, একজন চলচ্চিত্রকার যেন সিনেমার ভাষা নিয়ে ঠিক সেইভাবে লড়ছেন, যেভাবে একজন লেখক কোনো লেখা নিয়ে লড়েন। তিনি ভাষাটিকে পরীক্ষা করছেন, তার সীমা ভাঙছেন। আর সেই কারণেই ছবিটি এত শক্তিশালী।
চলচ্চিত্রের নিজস্ব ক্ষমতা এখানেই।
প্রশ্ন: বোর্হেসের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা কখন এল? এমন কিছু জায়গায়ও গেছেন, যেগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ দূরবর্তী।
লিনিয়াস: ব্রুকলিনে প্রথম তিন ঘণ্টা শুটিং করার পরই বুঝতে পারি, আমরা বোর্হেসের একটি জীবনী নির্মাণ করতে পারি। তখন ভাবলাম, যেসব জিনিস ধারণ করার কথা ছিল না, সেগুলোও ধারণ করা যায়।
প্রথমে নিউইয়র্কের কথা ভাবলাম। ফাইভ পয়েন্টস, বাওয়ারি—গ্যাংস অব নিউইয়র্ক বইয়ে যে জায়গাগুলোর কথা আছে, সেগুলো। বোর্হেস বইটি পছন্দ করতেন।
কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা গেল, ফাইভ পয়েন্টস বলতে এখন প্রায় শুধু একটি সাইনবোর্ড। তবু সেখান থেকেই ভাবনাটা বিস্তৃত হলো। বোর্হেসের সঙ্গে সম্পর্কিত যত জায়গায় যাওয়া সম্ভব, সবখানে যাব। জেনেভা, আদ্রোগে, অস্টিন—যেখানে যা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: ছবিতে আপনি বলেছেন, অস্টিন ছিল আপনাদের সফরের সবচেয়ে হতাশাজনক জায়গাগুলোর একটি। একজন মার্কিন দর্শক হিসেবে কথাটি আমার বেশ মজার লেগেছে।
লিনিয়াস: আশা করি, টেক্সাসের মানুষ আমার ওপর রাগ করবেন না। তবে জায়গাটি একটু হতাশ করেছে। লোকে বলে, পেকোস নদীর পশ্চিমে নাকি ভালো জায়গা। কিন্তু নদীর পূর্ব দিকে তেমন কিছু নেই।
যদিও আমি একটি স্টেটসন টুপি কিনেছি, যেটি ছবিতে দেখা যায়। এটাও তো কম কথা নয়!
আমার কাছে বুয়েনোস আইরেসের তৃণভূমি টেক্সাসের তৃণভূমির চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর। তবে টেক্সাসের প্রান্তরকে চলচ্চিত্রে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে সেগুলোকে বাস্তবে না দেখলেও সিনেমার মাধ্যমে আমরা অনেকটা দেখে নিতে পারি।
প্রশ্ন: ছবিতে আপনি খুব কম, হয়তো একেবারেই ব্যবহার করেননি, পুরোনো আর্কাইভের ভিডিও। কেবল একটি দৃশ্যে আপনাকে বোর্হেসের পুরোনো পারিবারিক ভিডিও ও সংবাদচিত্র দেখতে দেখা যায়। প্রচলিত ধরনের কোনো চলচ্চিত্র হলে সম্ভবত এ ধরনের ফুটেজের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করা হতো।
লিনিয়াস: কী আর বলব? বিষয়টি আমার মাথাতেই আসেনি। ছবির নিয়ম শুরু থেকেই পরিষ্কার ছিল। আমরা এই সংগ্রহে যা আছে, তা ব্যবহার করব। তারপর বোর্হেসের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জায়গায় যাব। এটাই ছিল ছবির পরিকল্পনা।
এই গল্প বলার জন্য আর্কাইভের পুরোনো ফুটেজের প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে চিঠি আছে, বই আছে, বস্তু আছে। আমরা সেগুলো নিয়েই কাজ করেছি। বাড়তি উপাদান খুঁজতে যাইনি।
আমরা বর্তমান সময়কে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি। আর জীবনী নির্মাণের ক্ষেত্রে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একজন মৃত মানুষের জীবন নিয়ে ছবি বানাতে গেলে বর্তমানকে ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ চলচ্চিত্রের বিষয়ই হলো বর্তমান—এই মুহূর্তে যা ঘটছে, যা আমাদের সামনে আছে।
তাহলে মৃত একজন মানুষকে কীভাবে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা যায়? হয়তো এমন জিনিসের দিকে তাকিয়ে, যেগুলো এখনো মৃত নয়। চিঠি, বই, জায়গা—এসব তো এখনো আছে। এগুলো আমাদের সামনে বর্তমান হিসেবে উপস্থিত।
যদিও টেক্সাস হয়তো মৃত! (হাসি)
প্রশ্ন: কাজটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে, কারণ আপনার ছবিতে যেমন বলা হয়েছে, বোর্হেস নিজের লেখার মধ্য দিয়েই নিজের জীবনী লিখে গেছেন।
লিনিয়াস: তার লেখা যেন একটি মাইনফিল্ড। আমার মনে হয়, তিনি ইচ্ছা করেই সেখানে ফাঁদ ও কৌশল রেখে গেছেন, যাতে সবাই কোনো না কোনোভাবে সেই ফাঁদে পা দেয়।
নিজের আত্মজীবনীমূলক রচনাগুলোর মধ্যে বোর্হেস অ্যান্ড আই–কে তিনি সম্ভবত তার সেরা কৌশল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাহলে আমরা কী করব? তিনি একই সঙ্গে নিজের জীবনী লিখেছেন, আবার সেটিকে অস্বীকারও করেছেন। এমন একজন লেখককে নিয়ে কাজ করা সহজ নয়। তিনি একজন ওস্তাদ।
আমরা চেষ্টা করেছি, তার রেখে যাওয়া ফাঁদগুলোকে অন্য দিক থেকে দেখতে। সরাসরি সেই ফাঁদে পা না দিয়ে কীভাবে সেগুলোকে কাজে লাগানো যায়, সেটাই ছিল আমাদের কাজ।

প্রশ্ন: তার জীবনের নানা মানুষের জন্যও আপনি ছবিতে যথেষ্ট জায়গা রেখেছেন। বিশেষ করে তার স্ত্রী এলসা আস্তেতে মিলানের জন্য।
লিনিয়াস: কেউ আগে তাকে এতটা সময় দেননি। কিন্তু এই সংগ্রহে এলসার নিজের লেখা ও তাকে ঘিরে প্রচুর নথি ছিল। পাবলো পিকাসো একবার বলেছিলেন, ‘আমি খুঁজি না, আমি খুঁজে পাই।’ আমাদের পদ্ধতিও ছিল অনেকটা তেমন। সামনে যা এসেছে, আমরা তাকে গ্রহণ করেছি। নথি আমাদের যে দিকে নিয়ে গেছে, আমরা সেই পথেই গেছি।
প্রশ্ন: ছবির বর্ণনা বা ভয়েসওভার কীভাবে তৈরি হয়েছে? শুটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কি লিখতে শুরু করেছিলেন?
লিনিয়াস: না, আমি অপেক্ষা করি। এখন পর্যন্ত অনেক ছবি ভয়েসওভার দিয়ে তৈরি করেছি, তাই এই কাজে কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু শুটিংয়ের সময়ই আমি ভাবতে থাকি, গল্পটি কীভাবে এগোবে। মনে মনে পুরো কাঠামোটি তৈরি করার চেষ্টা করি।
লেখা শুরু করি সম্পাদনার সময়। যখন একটির পর একটি দৃশ্য জুড়ে বসানো হয়, তখন বর্ণনাও লিখতে শুরু করি। আমার সম্পাদক ইগ্নাসিও কোদিনো পর্দার আড়ালে আসল কাজটি করেন। তিনি আমার কণ্ঠের রেকর্ডিং নিয়ে দৃশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেন।
কখনো দেখা যায়, কথাগুলো খুব কম হয়ে গেছে। তখন আরও কিছু লিখি। কখনো বেশি হয়ে যায়, তখন ছেঁটে ফেলি। এভাবেই কাজটি এগিয়েছে—হাতে-কলমে, একেবারে নিজস্ব পদ্ধতিতে।
প্রশ্ন: আপনার বর্ণনায় ছবিটিতে এক ধরনের ষড়যন্ত্রের আবহ তৈরি হয়। মনে হয়, কোথাও কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।
লিনিয়াস: হ্যাঁ। কিন্তু সেই রহস্যের সূত্রগুলো বোর্হেসই রেখে গেছেন। আমরা শুধু সেগুলো অনুসরণ করেছি।
প্রশ্ন: সংগীতও এই রহস্যের আবহকে আরও তীব্র করে তোলে।
লিনিয়াস: মানুষ প্রায়ই বলে, আমার ছবিগুলো এত দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও দ্রুত এগিয়ে যায়। তারা জানতে চায়, কীভাবে এটা সম্ভব।
উত্তর হলো, গাব্রিয়েল চোইনিক। তিনিই আমাদের সংগীতকার। অবশ্য সংগীতের কাজে আমারও কিছু অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু গাব্রিয়েল নিজের মতো কাজ করেন, যেন তার কোনো বাধা নেই। তার সংগীত এত শক্তিশালীভাবে গল্প বলে যে ছবির গতি সব সময় তার হাতে থাকে।
তিনি মার্জিত বা রুচিশীল দেখানোর জন্য সংগীত করেন না। গল্প বলার জন্য যা দরকার, তা-ই করেন। আমাদের ছবির ছন্দ তিনিই নির্ধারণ করেন। তিনি যেন আমাদের বাহিনীর ঢোলবাদক—তার তালে পুরো বাহিনী এগিয়ে চলে।
প্রশ্ন: ছবির বয়ানে আপনি বারবার মোড় বদলেছেন। যেমন, লরা পারেদেসকে একটি দৃশ্যে দেখা যায় বোর্হেসের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করা বিতর্কিত মন্তব্য পড়তে। পারেদেস লরা সিতারেলার ত্রেনকে লাউকেন (২০২২) ছবির প্রধান অভিনেত্রী।
লিনিয়াস: আমি জানতাম, ছবির এই অংশটি দর্শকদের জন্য কঠিন হবে। কারণ, বোর্হেস জীবনের এক পর্যায়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যেগুলো মেনে নেওয়া সহজ নয়। তাঁর জীবনের সেই সময়টা আগের মতো আনন্দময় ছিল না। ওই সময়ে তাঁর লেখা কমে গিয়েছিল, সাক্ষাৎকার বেড়ে গিয়েছিল। ফলে ওই সাক্ষাৎকারগুলোই তাঁর জীবন সম্পর্কে জানার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।
এসব মন্তব্য তার জীবনের অংশ। দুঃখজনক হলেও তা বাদ দেওয়ার উপায় নেই। আমরা ভেবেছিলাম, এই অংশটি সরাসরি না দেখিয়ে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তুলে ধরব। সেখানে কৌতুক ও নাটকীয়তা—দুই-ই থাকবে। পদ্ধতিটি কাজ করবে কি না, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না।
সৌভাগ্যক্রমে, এমন একজন অভিনেত্রীকে আমি চিনি, যাকে অতীতের যেকোনো অভিনেত্রীর মতোই শ্রদ্ধা করি। মার্লেন ডিট্রিখকে তো আর ফোন করতে পারি না। তাই লরাকে বললাম, বোর্হেসের মন্তব্যগুলো পড়তে। দেখতে চেয়েছিলাম, একজন নারী যখন কথাগুলো উচ্চারণ করেন, তখন সেগুলো কেমন শোনায়।
আকর্ষণীয় বিষয় হলো, লরার কণ্ঠে বোর্হেসের বর্ণবাদী ও ঘৃণ্য মন্তব্যগুলো মোটেও কোমল হয়ে ওঠে না। বরং তার কণ্ঠের দূরত্ব দর্শককে সেগুলো থেকে সামান্য ব্যবধান দেয়। এতে মন্তব্যগুলোর ভয়াবহতা কমে না, কিন্তু সেগুলো চলচ্চিত্রের ভাষায় ধরা সম্ভব হয়।
দর্শক এই অংশটি দেখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা নিয়ে আমার কৌতূহল আছে। আমার মনে হয়, আমরা ন্যায্যভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছি। তবু আশা করি, এতে কেউ অযথা আহত বোধ করবেন না।
আমি নিজে সেই মানুষদের একজন নই, যাদের সম্পর্কে তিনি অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি আমি কমিউনিস্টও নই। তাই তার বিদ্বেষ আমাকে সরাসরি আঘাত করে না। অবশ্য, একে বিদ্বেষ বলা ঠিক হবে কি না, তা নিয়েও ভাবা যায়। হয়তো বলা যায়, এটি ব্যর্থ রসিকতা—যে রসিকতা নিজের সীমা বুঝতে পারেনি।
দাসপ্রথা নিয়ে তার একটি মন্তব্যের সময় লরা যেভাবে হাসেন, সেটি আমার খুব পছন্দ। এমন হাসি, যেন আপনি কোনো রসিকতা করেছেন, নিজেই মনে করছেন তা বেশ মজার, অথচ আশপাশের কেউ হাসছে না। লরার হাসিতে সেই অস্বস্তি আছে। যেন তিনি এমন একটি কৌতুকের প্রস্তাব দিচ্ছেন, যার সঙ্গে কেউ যোগ দিতে চাইছে না।

কিন্তু ঘটনাটি হলো, ওই সময় তার সাক্ষাৎকারগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। মানুষ একটি সাক্ষাৎকার পড়ে আকস্মিকভাবে জানতে পারেনি যে বোর্হেস এমন কথা বলেন। বরং এসব বিতর্কিত মন্তব্য পড়ার জন্যই অনেকে পত্রিকা কিনতেন। বোর্হেসও সেই খেলায় অংশ নিতেন। এই মানুষটিই আমাদের ছবির বিষয়—তার ভালো দিক ও মন্দ দিক, দুই-ই নিয়ে।
প্রশ্ন: আপনার অন্য অনেক ছবির মতো লাইফ অব হোর্হে লুইস বোর্হেস–এও বহু বিচ্যুতি আছে। গল্প নানা অপ্রত্যাশিত পথে মোড় নেয়। কিছু অংশকে মনে হয় কল্পনা দিয়ে সাজানো বা বাড়িয়ে বলা হয়েছে। আপনি এসব মুহূর্ত কতটা আগে থেকে পরিকল্পনা করেন? আর দর্শক যেন এগুলোকে প্রামাণ্যচিত্রের অংশ হিসেবে কীভাবে দেখেন, তা নিয়ে আপনার ভাবনা কী? বিশেষ করে, আপনি যখন এত খেলাচ্ছলে গল্প বলেন।
লিনিয়াস: আমি শুধু গল্প বলি না। জীবনে অনেক সময় নীরবে চলেও বেড়াই। আমি পথের মানুষ। বলতে পারেন, পথঘাটের ব্যাপারে আমি বেশ ওস্তাদ—মাই ওন প্রাইভেট আইডাহো (১৯৯১) ছবিতে রিভার ফিনিক্সের চরিত্রটির মতো।
সত্যি বলতে, আমি যখন কোনো জায়গায় যাই, কোনো বাড়ি বা স্থাপনা দেখি, তখন এক ধরনের আতঙ্ক হয়। ভাবতে থাকি, এই জিনিসটিকে কীভাবে আমার ছবিতে ঢোকাব? কীভাবে এর সঙ্গে ছবির সম্পর্ক তৈরি করব?
এই ছবির একটি উদাহরণ দিই। আমরা একটি পতাকাদণ্ড দেখলাম। বোর্হেসের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু জিনিসটি দেখে আমার মনে হলো, এটিকে ছবিতে ঢোকানোর কোনো উপায় নিশ্চয়ই আছে। তারপর সেই চিন্তা আমাকে অস্থির করে তুলল। হয়তো শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না। কিন্তু যদি হয়, তাহলে আমি ওই পতাকাদণ্ডটিকে ছবির ভেতরে পাচার করে দিতে পারব!
আমি এভাবেই কাজ করি। ভ্রমণের সময় দেখা জিনিসগুলো ছবিতে রেখে দিতে চাই। সেগুলো যেন আমার সফরের স্মারক। কেন এমন করি, তার কোনো যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা আমার কাছে নেই। এটাই আমার কাজ। আর আমি যদি না করি, তবে কে করবে?
আরেকবার আমরা একটি রেলসেতু দেখতে পেয়েছিলাম। আমি বললাম, এর ছবি তুলতে হবে। কেন? কারণ, আমি যদি না তুলি, আর কেউ হয়তো তুলবে না। সেটি সত্যিই দুঃখের ব্যাপার হতো।
ফিল্ম কমেন্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









