অধরা খান একজন উদীয়মান ও প্রতিভাবান চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, যিনি তার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন। তিনি শুধু পর্দায় নয়, ব্যক্তিত্বেও আলাদা— নিজের লক্ষ্য নিয়ে দৃঢ় থাকা এবং সমালোচনার মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং শেখার আগ্রহ তাকে প্রতিনিয়ত উন্নতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। নতুনদের জন্য তিনি এক ধরনের অনুপ্রেরণা— যে চেষ্টা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তার স্টাইল, আত্মপ্রকাশের ভঙ্গি এবং ইতিবাচক মনোভাব তাকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাহিরে থাকেন। তবে তাকে স্যোসাল মিডিয়ায় বেশ সরব দেখা যায়। এবার জন্মদিনে ধরা দিলেন অধরা।
অধরা খান কিছুদিন আগেই কানাডা থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে মা’সহ পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এরমধ্যে কিছু দাওয়াতেও অংশ নিয়েছেন। আজ অধরার জন্মদিন। জন্মদিনের পুরোটা সময় পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারবেন বিধায় উচ্ছ্বসিত অধরা। তবে জন্মদিনের উচ্ছ্বাসের চেয়ে তার কাছে আরো বেশি ভালোলাগতো যদি তার মুক্তি প্রতীক্ষিত দুটি সিনেমা মুক্তির নির্ধারিত তারিখের ঘোষণা আসতো। কারণ একজন নায়িকার সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় হচ্ছে তিনি যে সিনেমাতে অভিনয় করেন শুটিং শেষে সেই সিনেমা দ্রুত সেন্সর হয়ে যেন মুক্তি পায়। অধরা খানের শেষ হয়ে যাওয়া দুটি সিনেমা একটি সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মণ্ডের ‘দখিন দুয়ার’ অন্যটি জাহিদ হোসেনের ‘ঋতুকামিনী’।
বাংলা চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা অধরা খান দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর নিজের দেশ, নিজের মানুষ—সবকিছু যেন নতুন করে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। আর সেই আবেগঘন সময়ের মাঝেই এসে গেছে তার জন্মদিন, যা তিনি উদযাপন করছেন মা এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে। দেশে ফেরার পর থেকেই অধরা খান নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন পারিবারিক সময় আর কাছের মানুষদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতে। বিভিন্ন সামাজিক দাওয়াতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে জন্মদিন উপলক্ষে তার সবচেয়ে বড় আনন্দ— এবার পুরো দিনটি তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারছেন। নিজের ভাষায়, এই মুহূর্তটাই তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।
অধরা বলেন, আল্লাহর রহমতে সুস্থ থাকা এবং এই বিশেষ দিনে দেশে থাকা—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মা’কে পাশে পেয়ে জন্মদিন উদযাপন করার অনুভূতিকে তিনি তুলনা করেছেন অনন্য এক ভালো লাগার সঙ্গে। ঘরোয়া আয়োজনে, নিজের মতো করে দিনটি কাটানোর সুযোগই তাকে দিয়েছে সত্যিকারের আনন্দ।
তবে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি পেশাগত জীবনের এক ধরনের অপেক্ষাও কাজ করছে তার মনে। তিনি জানিয়েছেন, তার অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র—দখিন দুয়ার এবং ঋতুকামিনী—দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সিনেমা দুটি দ্রুত সেন্সর সম্পন্ন হয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাক— এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
অধরা মনে করেন, একজন অভিনয়শিল্পীর প্রকৃত অস্তিত্ব তার কাজের মধ্যেই। শুটিং শেষ হওয়ার পর দ্রুত সিনেমা মুক্তি পাওয়া শিল্পীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতি একজন শিল্পীর ক্যারিয়ারে ছন্দপতন ঘটাতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। তাই দর্শকের সামনে নতুন কাজ নিয়ে হাজির হতে পারার মধ্যেই তিনি খুঁজে পান নিজের সার্থকতা।
এই দুটি সিনেমায় তিনি গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নায়ক’, ‘মাতাল’, ‘পাগলের মতো ভালোবাসি’ এবং ‘সুলতানপুর’। এছাড়াও ‘গিভ অ্যান্ড টেক’, ‘উন্মাদ’, ‘ঠোকর’, ‘বাটপার’ ও ‘দ্য রাইটার’সহ আরও কয়েকটি প্রজেক্টে কাজ করেছেন তিনি, যেগুলোর কিছু এখনো মুক্তির অপেক্ষায়।
চলচ্চিত্রে অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে অধরা জানান, সিনিয়র শিল্পীদের মধ্যে শাবানা ও ববিতা তার প্রিয়। এছাড়া মৌসুমী এবং শাবনূর-এর অভিনয় তাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করে।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটকেও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন অধরা, যার পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল।
সব মিলিয়ে, পারিবারিক উষ্ণতা আর পেশাগত প্রত্যাশার এক মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়েই কাটছে অধরা খানের এবারের জন্মদিন। তার ভক্তরাও অপেক্ষায় আছেন—কবে প্রিয় এই নায়িকার নতুন সিনেমাগুলো বড় পর্দায় দেখতে পাবেন।
আধরা খান এমন একজন শিল্পী যিনি ধীরে ধীরে নিজের স্বকীয়তা গড়ে তুলছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনার সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন। তার জন্মদিনে আমাদের শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন অধরা খান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









