পবিত্র আশুরা উপলক্ষে গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবারা থেকে শুরু হয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল। কারবালার ঐতিহাসিক ও হৃদয়বিদারক স্মৃতিকে স্মরণ করে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার অলিগলি।
সকাল ১০টার পরে ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিছিল শুরু হয়।
চারশ বছরের পুরনো এই ইমামবাড়ায় ভোর থেকেই ঢাকাসহ আশপাশের এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের শত শত মুসলিম জড়ো হতে থাকেন।
তাজিয়া মিছিলটি হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে রাজধানীর আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউ মার্কেট, সায়েন্সল্যাব ঘুরে ধানমন্ডি গিয়ে শেষ হবে।
মিছিলে অংশ নেওয়া অধিকাংশকেই কালো পোশাক পরিধান করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাদের হাতে প্রতীকী ছুরি, আলাম, পতাকা বা নিশান, বেস্তা, বইলালামও দেখা যায়।
তাজিয়া মিছিল ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব, সোয়াত, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।
তাজিয়া মিছিল যেসব রাস্তা দিয়ে যাবে সেসব রাস্তায় সাধারণ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেছে।
আরবি ‘আশারা’ শব্দের অর্থ দশ। আর আশুরা মানে দশম। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে নির্মমভাবে শহীদ হন।
শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে হজরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা জোগায়। সত্য ও সুন্দরের পথে চলার প্রেরণা জোগায়। শিয়া সম্প্রদায় এদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল উল্লেখযোগ্য।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









