মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

৭৫০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী অক্সফোর্ডের মের্টন কলেজ লাইব্রেরি

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

৭৫০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী অক্সফোর্ডের মের্টন কলেজ লাইব্রেরি

ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন ও ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত গ্রন্থাগার হিসেবে পরিচিত মের্টন কলেজ লাইব্রেরি সম্প্রতি তার ৭৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলো। মধ্যযুগীয় এই লাইব্রেরি শুধু একটি জ্ঞানভাণ্ডার নয়, বরং এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও শিক্ষার এক অনন্য সাক্ষী।

১৩শ শতাব্দীতে যখন প্রিন্টিং মেশিন আবিষ্কার হয়নি তখন একটি বই তৈরি করতে মাসের পর মাস সময় লাগত। তাই বইকে সোনা-রত্নের মতোই মূল্যবান মনে করা হতো। মের্টন কলেজের ভেতরে একটি বিশেষ কাঠের সিন্দুকে বই সংরক্ষণ করা হতো, যা খুলতে একসঙ্গে তিনজন চাবিধারীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল।

১২৭৬ সালে আর্কবিশপ অফ সেন্টারবারি একটি নির্দেশ জারি করেন, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বই দান করতে বলা হয়। এই নির্দেশনাকেই লাইব্রেরিটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

প্রথমদিকে বইগুলো সিন্দুকেই রাখা হতো এবং নির্দিষ্ট নিয়মে ধার দেয়া হতো। পরে বইগুলো টেবিলের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা শুরু হয়, যাতে যে কেউ নির্দিষ্ট স্থানে বসেই পড়তে পারে।

১৩৭০-এর দশকে একটি বিশেষ কক্ষ নির্মাণ করা হয় লাইব্রেরির জন্য। এখানেই প্রথমবারের মতো ব্রিটেনে বই সংরক্ষণের জন্য অনুভূমিক তাক ব্যবহার করা হয়, যা আধুনিক লাইব্রেরি ব্যবস্থার সূচনা বলে বিবেচিত।

এই লাইব্রেরি ব্যবহারের তালিকায় রয়েছেন ১৪শ শতকের গণিতবিদ থেকে শুরু করে বিখ্যাত লেখক জে. আর. আর. টলকেইন পর্যন্ত। এমনকি এই লাইব্রেরির খ্যাতি পৌঁছেছে সাহিত্যেও। এফ. স্কট ফিটগেরাল্ড তার বিখ্যাত উপন্যাস দ্য গ্রেট গ্যাটসবিতে এই লাইব্রেরির উল্লেখ করেন।

১৯শ শতকে এটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। রালফ ওয়ালডো ইমারসন এবং বিটরিক্স পোটারের মতো ব্যক্তিত্বও এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছেন।

‘সবচেয়ে প্রাচীন’ বিতর্ক
একসময় এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন লাইব্রেরি বলা হলেও, আধুনিক ইতিহাসবিদরা এই দাবিকে সতর্কভাবে বিবেচনা করেন। বর্তমানে এটিকে “ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন কার্যকর একাডেমিক লাইব্রেরি” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

বিশ্বের প্রাচীন লাইব্রেরি নিয়ে বিতর্কে লাইব্রেরি অফ আল কারাউইয়েন এবং সেইন্ট ক্যাথ্রিন মনাসটেরি লাইব্রেরির নামও উঠে আসে।

ডিজিটাল যুগে অভিযোজন
বর্তমানে লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকে গবেষকরা এগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক লাইব্রেরির গুরুত্ব কখনোই হারাবে না।

৭৫০ বছর আগের যে বই দানের ঐতিহ্য শুরু হয়েছিল, তা আজও বহাল রয়েছে। এই লাইব্রেরি শুধু বইয়ের সংগ্রহ নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক।

হানি

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.