ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর বিপ্লবী ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সংগঠক রাসবিহারী বসুর মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ছিলেন এক বর্ণাঢ্য বিপ্লবী জীবনের অধিকারী। ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে দেশমাতৃকাকে মুক্ত করার জন্য তিনি সারা জীবন বিভিন্ন দেশ হতে অস্ত্র, অর্থ সরবরাহ ও বিপ্লবী কর্মী তৈরীর কর্মযজ্ঞে নিয়োজিত ছিলেন।
১৮৮৬ সালের ২৫ মে বর্ধমান জেলার (বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান) সুবলদহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ভারতের অন্যতম কিংবদন্তি বিপ্লবী রাসবিহারী বোস। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্ধর্ষ কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অসামান্য বুদ্ধিমত্তা তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। সাহিত্যের পাতাতেও তিনি চিরস্মরণীয় । অনেকের মতে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচীর সঙ্গে রাসবিহারী বোসের বিস্ময়কর সাদৃশ্য রয়েছে।
নারায়ণ সান্যালের লেখা ‘আমি রাসবিহারীকে দেখেছি’ গ্রন্থে তাঁর রোমহর্ষক আত্মগোপন ও ছদ্মবেশের কাহিনি উঠে এসেছে। লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপের দিনই দেরাদুনে সন্ত্রাসবিরোধী সভায় সভাপতির আসনে বসে যে ব্যক্তি আগুনঝরা ভাষণ দিয়েছিলেন সেই তিনি নিজেই ছিলেন সেই ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর। ব্রিটিশ প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে তিনি শেষ দিন পর্যন্ত অধরা থেকেছেন।
মাত্র তিন বছর বয়সে মাতৃহারা রাসবিহারী বোস বড় হন মামার কাছে। সুবলদহ ও পরে ফরাসি শাসিত চন্দননগরে শিক্ষা লাভ করেন। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘আনন্দমঠ’ ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ তাঁর মনে জাতীয়তাবাদী চেতনার বীজ বপন করে। কর্মসূত্রে সিমলা ও দেরাদুনে থাকাকালীন বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং বাঘা যতীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
১৯১২ সালের ২৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রাসবিহারী বোস। বসন্ত বিশ্বাস ও অবোধ বিহারী বোস শহিদ হলেও তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাত এড়িয়ে যান। পরে গদর পার্টির সহায়তায় ১৯১৫ সালে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা হলেও বিশ্বাসঘাতকতায় তা ব্যর্থ হয়।
এরপর ছদ্মবেশে তিনি জাপানে পাড়ি দেন। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন, জাপানি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ গঠন করেন। এই সংগঠনের নেতৃত্ব পরে তুলে দেন সুভাষচন্দ্র বসুর হাতে, যা আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের পথ প্রশস্ত করে।
১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি টোকিওতে প্রয়াত হন এই মহান বিপ্লবী। জাপান সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে। 'দ্য সেকেন্ড অর্ডার অফ মেরিট অফ দ্য রাইসিং সান' সম্মান লাভ করেন তিনি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার সংগ্রামে রাসবিহারী বোস এক অনন্য ও প্রেরণাদায়ী নাম।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









