ইতিহাসের পরিক্রমায় সাত দশক সময় নিতান্তই সামান্য। হাজার হাজার বছর ধরে আদি ও অকৃত্রিম যে ভারতবর্ষ বিশ্বের বিস্ময় হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা করে আসছিল সেই বহুবৈচিত্র্যের বাসভূমিতে অনৈক্য আর অনাসৃষ্টির সূচনা ঘটে ঔপনিবেশিক শক্তির হাত ধরেই। স্বীকার করতেই হবে-নিপীড়ন আর নিষ্পেষণে জর্জরিত হয়েও ভারতবর্ষ বৈচিত্র্যের যে ঐক্যকে লালন করে আসছিল একজন সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন তাঁর উজ্জ্বলতম প্রতিনিধি। পরাধীন ভারতবর্ষের পূর্ণ-স্বরাজের দাবিতে সোচ্চার জাতীয় কংগ্রেসের দুই বারের সভাপতি শ্রী সুভাষচন্দ্র বসু ইতিহাসের জঘন্যতম চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্রকে প্রবল বিক্রমে মোকাবেলা করে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পেরেছিলেন বলেই আমরা সাত দশক পরেও তাঁর বন্দনায় ব্যাকুল হই। আজ সেই মহীরুহ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী।
প্রকাশ্যে মাত্র দুই দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি যেভাবে গোটা ভারতবর্ষকে একবৃন্তে গেঁথে দিতে পেরেছিলেন, উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন অভিন্ন ভারতীয় খাঁটি জাতীয়তাবাদে, সেহেতু আমাদের একথা অত্যুক্তি হবে না-নেতাজী সুভাষ ভারতমাতার আশীর্বাদে হাজার হাজার বছরের পরম্পরাকেই সার্থক করেছিলেন। আদি ও অকৃত্রিম ভারতবর্ষের তিনিই তো সত্যিকারের বরপুত্র। ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র বসু ওড়িশার কটক শহরের এক বাঙালি কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি পিতা জানকীনাথ বসু ও মাতা প্রভাবতী বসুর ১৪ সন্তানের মধ্যে নবম সন্তান।
সুভাষচন্দ্র বসু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় জাতীয়তাবাদী নেতা, যিনি এই সংগ্রামে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক ও আর্জি-হুকুমত-ই আজাদ হিন্দ সরকারের প্রধান। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ‘দেশনায়ক উপাধি’ দিয়েছিলেন। তিনি নেতাজী নামে সমধিক পরিচিত। সুভাষচন্দ্র বসু পরপর দু'বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরবর্তী কালে তিনি অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন, জাপানের সহযোগিতায় আইএনএ পরিচালনা করে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেন। নেতাজী কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন অদম্য চেতনার প্রতীক। তাঁর উক্তি, “তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”, ভারতীয় মুক্তিকামী জনতার মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
নেতাজীর জীবন আমাদের শেখায়,সাহস, দৃঢ় সংকল্প এবং দেশপ্রেমের মিলনে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









