বিশ্বজুড়ে আজ ২১ আগস্ট পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস। প্রবীণদের অবদান ও অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান জানানো, তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং বয়স্ক মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিনটি পালিত হয়।
বিশেষ করে প্রবীণদের স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, পারিবারিক অবহেলা ও নির্যাতনের মতো বিষয়গুলো এ দিবসে গুরুত্ব পায়। পরিবার কিংবা বাইরের মানুষের হাতে প্রবীণদের শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের ঘটনাও সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
যেভাবে শুরু হয়েছিল প্রবীণ নাগরিক দিবস
প্রবীণদের জন্য বিশেষ দিবস পালনের উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ১৯৮৮ সালে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান ওই বছর এক ঘোষণার মাধ্যমে আগস্টের তৃতীয় রোববারকে জাতীয় প্রবীণ নাগরিক দিবস হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেন। এর আগে মার্কিন কংগ্রেসে হাউস জয়েন্ট রেজ্যুলেশন ১৩৮ পাস হয়। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে প্রতি বছর আগস্টের তৃতীয় রোববার জাতীয় প্রবীণ নাগরিক দিবস ঘোষণা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
রিগান তার ঘোষণায় প্রবীণ নাগরিকদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় বয়স্ক মানুষের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে প্রবীণদের জীবনের শেষ পর্যায় যেন মর্যাদা, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে কাটে, তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রবীণদের প্রতি অবহেলা নয়
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ শারীরিক অসুস্থতা, একাকীত্ব ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হন। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে পারিবারিক অবহেলা কিংবা নির্যাতন। সন্তান বা স্বজনদের কেউ কেউ প্রবীণ বাবা-মাকে দায়িত্বের বোঝা হিসেবে বিবেচনা করেন। আবার অনেক প্রবীণ পর্যাপ্ত চিকিৎসা, নিরাপদ বাসস্থান ও সামাজিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।
প্রবীণদের প্রতি এমন আচরণ শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা নয়; এটি বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক প্রশ্ন। তাদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে সম্মান করার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও সমাজের দায়িত্ব।
বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা
বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জনসংখ্যার বার্ধক্যকে আগামী দশকগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, উপযুক্ত আবাসন, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে নতুনভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রবীণদের জন্য শুধু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবীণদের সম্মান করার দিন
বিশ্ব প্রবীণ নাগরিক দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বয়স কখনো মানুষের মূল্য কমিয়ে দেয় না। বরং একজন প্রবীণের জীবনের অভিজ্ঞতা পরিবার, সমাজ ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে। তাই এ দিনে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের প্রতি অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্য বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।
বছরের অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও জাতীয় দিবসের মতোই এই দিনটির মূল লক্ষ্য একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া—যেখানে শিশু, তরুণ ও প্রবীণ সবাই নিরাপদ, সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









