১ অক্টোবর, বিশ্ব প্রবীণ দিবস। বিশ্বের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বয়সভিত্তিক বৈষম্য দূর করার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৯০ সালে ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থাপনা নতুন করে ভাবা’। জাতিসংঘের মহাসচিবের বার্তায় বলা হয়েছে, বিশ্বে মানুষ আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচছে। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১২০ কোটি থেকে বেড়ে ২১০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। তখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই হবে প্রবীণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালেই বিশ্বে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ছাড়িয়ে যায়। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রতি ছয়জন মানুষের একজনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হবে। একই সময়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০২০ সালের প্রায় ১০০ কোটি থেকে বেড়ে ১৪০ কোটিতে পৌঁছাবে। ২০৫০ সালে এ সংখ্যা ২১০ কোটিতে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
বাংলাদেশেও বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। এর মধ্যে ৬০ বছর ও তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত বেড়ে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দেশের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন প্রবীণ বয়সে পৌঁছেছে।
প্রবীণদের জীবনযাপনেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী প্রবীণদের অনুপাত কমেছে এবং শহরাঞ্চলে বেড়েছে। আবার ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী অধিকাংশ মানুষ এখনো সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করলেও একা অথবা শুধু স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসের প্রবণতাও বেড়েছে।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে অবসর বয়সের পর পেনশন পাওয়া মানুষের অনুপাত ২০০২ সালের ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২১ সালে ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পুরুষ ও নারী—উভয়ের ক্ষেত্রেই কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, প্রবীণদের জন্য উপযোগী কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আজীবন শেখার সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জাতিসংঘও দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
বিশ্ব প্রবীণ দিবস তাই শুধু প্রবীণদের নিয়ে ভাবার একটি দিন নয়; বরং একটি পরিবর্তনশীল বয়সভিত্তিক সমাজে আগামী দিনের ব্যবস্থা কেমন হবে, তা নতুন করে ভাবারও উপলক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









