উপমহাদেশের প্রথিতযশা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্মদিন আজ। ১৯৫৭ সালের এই দিনে রংপুরে এক বিদ্যোৎসাহী উপাধ্যক্ষের পরিবারে তাঁর জন্ম। আজ তিনি ৬৯ বছরে পা রাখলেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রবীন্দ্রসংগীতের এক নিষ্ঠাবান সাধক ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত শিল্পী হিসেবে।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা শুধু বাংলাদেশেই নন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সমানভাবে জনপ্রিয় ও সম্মানিত। বাংলাদেশ ও ভারতে তাঁর বহু সংগীত অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীতের আবেশ, শুদ্ধতা ও ভাবগভীরতা শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।
শিক্ষাজীবনে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে সংগীতচর্চার তীব্র আকর্ষণে ভারতে গিয়ে সংগীতে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। রবীন্দ্রসংগীতের পাশাপাশি তিনি ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের উপরও গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর সংগীতশিক্ষার শুরু ‘ছায়ানট’-এ। পরে তিনি ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও বুলবুল ললিতকলা একাডেমীতেও তিনি সংগীত শিক্ষা লাভ করেন।
শান্তিদেব ঘোষ, কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীলিমা সেন ও আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্যে গান শেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন তিনি, যা তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
কর্মজীবনে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ‘সুরের ধারা’ নামে একটি সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংগীতচর্চায় উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন।
সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৭ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গভূষণ’ পদকে ভূষিত হন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিরোজা বেগম স্মৃতি স্বর্ণপদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
সর্বশেষ, ২০২৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ পদকে সম্মানিত করে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের সংগীত সাধনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা আজও রবীন্দ্রসংগীতের আলো ছড়িয়ে চলেছেন দেশে ও দেশের বাইরে। তাঁর কণ্ঠে ও কর্মে রবীন্দ্রনাথের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে জীবন্ত হয়ে উঠছে—এই কারণেই তিনি একাধারে শিল্পী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক পথপ্রদর্শক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









