পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে মধুর ডাক হলো ‘মা’। এই একটি শব্দের মাঝেই লুকিয়ে আছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, অফুরন্ত মমতা আর পরম নিরাপত্তা। জীবনের প্রতিটি ধাপে, সামান্যতম ব্যথায় বা কঠিন বিপদে আমাদের অবচেতন মন সবার আগে যাকে খোঁজে, তিনি হলেন ‘মা’। মাকে নিয়ে লিখতে বসলে শব্দ ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু অনুভূতির শেষ হবে না। মা আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি এবং পরম নির্ভরতার ঠিকানা। সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস।
বিশ্বজুড়ে মে মাসের দ্বিতীয় রোববারটি উৎসর্গ করা হয় মমতাময়ী মায়েদের। মা— এক অক্ষরের এক পৃথিবী। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মা মানেই নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং এক নিবিড় আশ্রয়ের নাম। আমরা যখন যন্ত্রণায় থাকি কিংবা সামান্য আঘাত পাই, আমাদের ঠোঁটে অজান্তেই যে নামটি উচ্চারিত হয়, তা হলো ‘মা’। জীবনের ঝড়-ঝাপটায় মা-ই হলেন একমাত্র পরম নির্ভরতার মানুষ, যার কাছে গেলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। মাকে নিয়ে মহাকাব্য লিখলেও তাঁর মহিমা শেষ করা অসম্ভব।
সকাল থেকেই যার যার মাকে ভালোবাসা জানাচ্ছেন অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী। মায়ের সঙ্গে ছবি আপলোড করে নিজের ভালোবাসা ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন অনেকে।
মাকে নিয়ে কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছিলেন- “মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই,/ ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই/ সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক মাথার’ পরে আজি/ অন্তরে মা থাকুক মম, ঝরুক স্নেহরাজি।”
মাকে নিয়ে হাজারও কবি, সাহিত্যেক যুগে-যুগে লিখে গেছেন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে। জন্মের পর থেকে শুরু করে শৈশব-কৈশোর এবং যৌবনের প্রতিটি পর্যায়ে মা জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মায়ের হাতে ভর দিয়ে পদচারণা শুরু, মায়ের চোখে পৃথিবী দেখা, গল্প শোনা, কলম ধরে এলোমেলো কিছু লিখতে চেষ্টা করা, আবার কখনো একটু ভয় পেয়ে মুরগির ছানার মতো বুকের মধ্যে লুকিয়ে পড়া, খানিক বাদে বের হয়ে আবার আকাশ দেখা এমন অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে থাকে মানুষটির সঙ্গে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের জীবনের প্রতিটি পদেপদে জড়িয়ে থাকে হাজারও সুখকর স্মৃতি। সেই স্মৃতি আমাদের বাঁচতে শেখায়, সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে যাওয়ার ব্রত হিসেবে কাজ করে।
১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মা দিবস পালন করা হয়। আমেরিকার স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস মাকে ভালোবেসে এই দিবসের প্রচলন করেন। ১৯০৫ সালে তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মৃত্যুর পর এ নিয়ে তিনি আরও বেশি প্রচারণা চালান। নিজের মায়ের মতো দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সব মাকে স্বীকৃতি দিতে আনা জার্ভিস প্রচার শুরু করেন। মাকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এই বিশেষ দিনে প্রচলন শুরু করা হয়। ১৯০৫ সালে তিনিই প্রথম মা দিবসকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য লড়াই শুরু করেছিলেন। তার এই প্রস্তাব শুরুর দিকে খারিজ করে দিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। এরপর আমেরিকার সব প্রদেশ তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে ওই দিন ছুটি পালন করা হয়। এভাবেই ছিল মা দিবসের শুরুটা।
আজকের এই দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সব মা সুস্থ থাকুক, ভালো থাকুক এই হোক আজকের প্রত্যাশা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









