রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

দ্রুত ছড়াচ্ছে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

দ্রুত ছড়াচ্ছে মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা

পানির অপর নাম জীবন হলেও, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সেই পানিই হয়ে উঠছে মৃত্যুর কারণ। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে মাটি ও পানিতে এমন কিছু বিপজ্জনক জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে, যা আগে কেবল নির্দিষ্ট কিছু উষ্ণ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ ছিল। সম্প্রতি বায়োকন্ট্যামিন্যান্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ফ্রি-লিভিং অ্যামিবা নামক একদল অণুজীবকে জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অ্যামিবা এককোষী অণুজীব, যা সাধারণত মাটি, হ্রদ, নদী এমনকি আমাদের সরবরাহকৃত ট্যাপের পানিতেও বাস করে। এদের অধিকাংশ মানুষের জন্য ক্ষতিকর না হলেও, কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতি অত্যন্ত ভয়ংকর। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো নেগ্লেরিয়া ফাউলেরি, যা মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা নামে পরিচিত। ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের জলাশয়ে এমন জীবাণুর উপস্থিতির তথ্য জানানো হয়েছিল।

মস্তিষ্কখেকো অ্যামিবা সাধারণত দূষিত পানিতে সাঁতার কাটার সময় মানুষের নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। নাকের স্নায়ু বেয়ে এটি সরাসরি মস্তিষ্কে হানা দেয় এবং টিস্যুগুলো ধ্বংস করতে শুরু করে। যদিও এই সংক্রমণের ঘটনা বিরল, তবে একবার আক্রান্ত হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকে খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির মাধ্যমে নাকে এই অণুজীব প্রবেশ করলে তা দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। অ্যামিবা উষ্ণ পানিতে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। আগে শীতপ্রধান দেশগুলোয় এই অণুজীবের উপদ্রব ছিল না বললেই চলে, কিন্তু এখন সেসব দেশের জলাশয়গুলোর তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সেখানেও অ্যামিবার দেখা মিলছে। এ বিষয়ে চীনের সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লংফেই শু জানিয়েছেন, এই অণুজীব অত্যন্ত সহনশীল। তারা এমন সব পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে পারে যা অন্য অনেক জীবাণুর পক্ষে অসম্ভব।

অধিকাংশ পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় জীবাণু মারতে ক্লোরিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফ্রি-লিভিং অ্যামিবা ক্লোরিনের মতো শক্তিশালী জীবাণুনাশকেও ধ্বংস হয় না। তারা পানির পাইপ এবং স্টোরেজ ট্যাংকের ভেতরে নিজেদের আস্তানা গেড়ে বসে থাকে। ফলে পানি দেখতে স্বচ্ছ এবং গন্ধহীন মনে হলেও এর ভেতরে ক্ষতিকর জীবাণু লুকিয়ে থাকতে পারে। এই গবেষণায় আরেকটি ভীতিকর তথ্য উঠে এসেছে। ফ্রি-লিভিং অ্যামিবা কেবল নিজেই আক্রমণ করে না, বরং এটি তার কোষের ভেতরে অন্যান্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে আশ্রয় দেয়। ফলে জীবাণুনাশকগুলো সেই লুকানো ব্যাকটেরিয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। অ্যামিবার সুরক্ষা কবজে থেকে এসব জীবাণু আরও শক্তিশালী এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে ওঠে। সূত্র: আর্থ ডটকম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.