শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

গুষ্টিসুদ্ধ ‘ঘুষের বিষ্ঠা’ নাসরুল্লাহর গায়ে

ইউসুফ আলী বাচ্চু

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

গুষ্টিসুদ্ধ ‘ঘুষের বিষ্ঠা’ নাসরুল্লাহর গায়ে

সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহর যাবতীয় দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে তাকে রক্ষার ‘মহান দায়িত্ব’ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে আরেক বহুবিতর্কিত কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউওয়ালের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও এখনো ডিপিএইচই বহাল তবিয়তে রয়েছেন ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত এই কর্মকর্তারা। নাসরুল্লাহ শুধু নিজেই দুর্নীতিতে জড়াননি, স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি, শালা-শালী, ভাই-বেরাদারসহ পুরো পরিবারকেই জড়িয়েছেন ঘুষের কারবারে। এসব কারণে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। স্থবির হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের শেষ সময়ে ডিপিএইচইতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বেশ কয়েকটি বদলি ও পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে কক্সবাজার জেলায় প্রাইজপোস্টিং দেওয়া এবং ময়মনসিংহ সার্কেলের এসি ও কুয়েটের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল আউওয়ালকে চারজনকে টপকিয়ে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ।

জানা যায়, ওই সময় কক্সবাজারে বদলি হতে মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে গুনতে হয়েছেছিল তিন কোটি ও প্রধান প্রকৌশলী পদের জন্য আব্দুল আউওয়ালকে গুনতে হয়েছে পাঁচ কোটি টাকা। আর এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। এরপর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ১ মার্চ সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ ও প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল।

মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে মোহাম্মদ নাসরুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়ালকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করে ঈদের আগে বদলির আদেশও তৈরি করেছিল ডিপিএইচই।

কিন্তু হঠাৎই মত বদলে যায় প্রধান প্রকৌশলীর। নাসরুল্লাহ ও আউয়াল দুজনই আওয়ামী লীগের একান্ত অনুগত হওয়ায় দলীয় বিবেচনায় কৌশলে মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করার সুযোগ তৈরি করে দেন আউয়াল। নিজেও প্রধান প্রকৌশলী পদ ধরে রাখতে তদবির করে বেড়াচ্ছেন। এবং এই দুই তদবিরের টাকাও ‘প্যাকেজে’ আদায় করছেন নাসরুল্লাহর কাছ থেকে।

অথচ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই রয়েছে দূর্নীতি, অনিয়ম ও মাসের পর মাস ঠিকাদারদের বিল আটকে রেখে কমিশন বাণিজ্যসহ এন্তার অভিযোগ। শুধু তা-ই নয়, এসব অবৈধ টাকায় তারা গড়েছেন বাড়ি-গাড়ি, প্লট ও ফ্ল্যাট। এই দুজনের বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ পড়ার পরও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। বরং মোহাম্মদ নাসরুল্লাহকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটিতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতে পারেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অনুসন্ধানে যানা যায়, কক্সবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় পাঁচতলা বিলাসবহুল ভবন ও পূর্বাচলে ১০ কোটি টাকার প্লট কিনেছেন। এ ছাড়া কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে তার বড় ভাই মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর নামে ৫০ একর জমি এবং ৮০ লাখ টাকায় দুটি প্রিমিও গাড়িও কিনেছেন তিনি। একটি গাড়ি নিজে ব্যবহার করেন (ঢাকা মেট্রো-গ-২০-৮৫১৩) অন্যটি ব্যবহার করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরী। দুর্নীতির টাকার বেশির ভাগই কানাডায় পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কানাডায় নিজ নামে বাড়ি ও সম্পদ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরে আট মাস এবং লক্ষ্মীপুরে এক বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের উন্নয়ন সমন্বয়ক ও ডিপিএইচইর ঠিকাদার মো. কামাল হোসেনকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে কুমিল্লা জেলায় বদলি হন মো. নাসরুল্লাহ। বদলির পর কামালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্য গড়ে ওঠে তার। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কামাল সাবেক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ায় ডিপিএইচই কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠে ছিলেন এই দুজন। হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশ ছেড়ে দুবাই পালিয়েছেন কামাল হোসেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে মো. নাসরুল্লাহর মূল বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারি চাকরির সময় থেকে এ পর্যন্ত তার মোট বৈধ আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। কিন্তু কুমিল্লা জেলায় বদলির পর পাঁচ শতাধিক টেন্ডারের মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি কমিশন বাণিজ্য করেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে নাসরুল্লাহর ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের বেশ কয়েকটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট আসে এদিনের হাতে।

এতে দেখা যায়, গত ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের ও শ্বশুরালয়ের লোকজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার ওপরে ঘুষ লেনদেন করেছেন।

যার কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো: ২০২২ সালের ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের প্রিমিয়ার ব্যাংক, কুমিল্লা ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট-০১৩৭১১১০০০০০৪২৮) থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহর নিজ অ্যাকাউন্টে (০২১১১১০০০৫৮০৯ ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম) ২ লাখ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর তার শাশুড়ি মোসা. রেহানা আক্তার চৌধুরীর (০২১১১০০০৯৮৬১, ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ) অ্যাকাউন্টে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শম্পা এন্টারপ্রাইজের এনআরবিসি ব্যাংক কুমিল্লা ময়নামতি ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট-০১৩৪৩৩৩৪৫৫) থেকে ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ তার স্ত্রী মোসা. সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরীর (অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০১৮০৩১০০৩২২৩৮) মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, জুবলি ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম শাখায় আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের দিদার ই আলমের ফরিদগঞ্জের এনআরবিসি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (৫০১৭৩১১০০০০৩৭১০) থেকে ২ লাখ ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ১৯ মে মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের দিদার ই আলমের এনআরবিসি ব্যাংক ফরিদগঞ্জের সাব ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট (৫০১৭৩১১০০০০৩৭১০) থেকে তার শ্যালক মো. শাহিনুর জামান চৌধুরীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিউ আদর কসমেটিকসের (অ্যাকাউন্ট- ১৫৮৩৩০০০৬১৬, ব্যাংক এশিয়া, চাক্তাই ব্রাঞ্চ) অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। একই তারিখে একই ব্রাঞ্চে মো. শাহিনুর জামান চৌধুরীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১৫৮৩৪০০০১০৪) দিদার ই আলমের ফরিদগঞ্জ এনআরবিসি ব্যাংক থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়।

২০২২ সালের ২৬ জুন নাসরুল্লাহর আরেক শ্যালক মইনুল আরেফিন চৌধুরীর (অ্যাকাউন্ট ০২১১১১০০১১৮২৮, ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ) মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের প্রিমিয়ার ব্যাংক কুমিল্লা ব্রাঞ্চ থেকে (অ্যাকাউন্ট ০১৩৭১১১০০০০০৪২৮) তার বড় ভাই মো. শহিদুল্লাহর (১১৩১০০১২৬৩৭০৯, ন্যাশনাল ব্যাংক, বরুড়া ব্রাঞ্চ, কুমিল্লা) অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ টাকা পাঠানো হয়।

একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বড় ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে আরও ২ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনে প্রিমিয়ার ব্যাংকে কুমিল্লা ব্রাঞ্চ থেকে। একই বছরের ১৬ মে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ১ লাখ টাকা পাঠানো হয় নাসরুল্লাহর বড় ভাই শহিদুল্লাহর অ্যাকাউন্টে।
পরিবারের বাইরেও নিজস্ব ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে নাসরুল্লাহর বিরুদ্ধে। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি কাজ ও অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে। এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো, শাহ মজিবের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় লেনদেন করেছেন। শাহ মজিবের অ্যাকাউন্টে (০১৩৭১১১০০০০০৪২৮, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কুমিল্লা ব্রাঞ্চ) ঘুষ নিয়ে পরে তিনি সেই টাকা ক্যাশ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ৩ জুলাই মাসে লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহরাব ইসলামের এনআরবিসি ব্যাংক চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, (অ্যাকাউন্ট নং ৫০৬০৩৩৩০০০০০৫৭৮) থেকে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। যা পরে নাসরুল্লাহ ক্যাশ তুলে তার শ্যালক ও শ্যালকের প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন বলে জানা যায়।

এ ছাড়া মো. আনিসুর রহমান, ইসলামী ব্যাংক, চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, অ্যাকাউন্ট নং ২০৫০৩৩৫০২০১৯১৩১১৪ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা; মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ব্যাংক, নারায়ণগঞ্জ ব্রাঞ্চ থেকে (অ্যাকাউন্ট নং ১০১০০০০৬৪২৯০৫) ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা; মেসার্স সোহরাব ইসলাম, এনআরবিসি ব্যাংক, চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, অ্যাকাউন্ট নং ৫০৬০৩৩৩০০০০০৫৭৮ থেকে ২০২২ সালের ৩ জুলাই ১০ লাখ টাকা; ৩ অক্টোবর প্রায় ৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ৮ লাখ টাকা, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সিমেক ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক, মালিবাগ ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট নং ১০০১০০১৩৮৯৬৫৭) থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি নাসরুল্লাহর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে ধরে দুদক ও স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি। তাতে বলা হয়েছে- নাসরুল্লাহর বাবা একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকি দুই ভাই বেকার। তিনি নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সাবেক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চম গ্রেডে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করছেন।

কুমিল্লা জেলার ২০২১-২২ অর্থবছরে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের একটি কাজে (দরপত্র আইডি-৭০৮৬৪২) কার্যাদেশ প্রদানের চার দিনের মাথায় কোনোরূপ কাজ সম্পাদন না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের নামে চূড়ান্ত বিল প্রদান করে সরকারের সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই প্রকল্পের আওতায় আরও চারটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং সেগুলো থেকে সিএস বাবদ তিনি নিজ, প্রকল্প পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ১০ পার্সেন্ট অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কুমিল্লা জেলায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার নলকূপ বরাদ্দ হয়েছে। ওই বরাদ্দের প্রেক্ষিতে ৩১টি প্যাকেজ দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব দরপত্রের ওপেনিং শিটে দেখা যায়, মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ অফিসিয়াল প্রাক্কলন প্রদান করে পয়সাসহ হিসাব করে হুবহু ১০ পার্সেন্ট লেসে (নিম্ন দরে) প্রদান করিয়ে ২৫টি কাজ নিম্ন দরদাতা হিসেবে পাইয়ে দেন।

জানা যায়, তিনি ঠিকাদারকে টাকার বিনিময়ে প্রাক্কলন দিয়েছেন। তা ছাড়াও ওই ঠিকাদারের ২৫টি কাজের মধ্যে ১৬টিতে (৫০ কোটি টাকার) পাশ করে নোয়া (নটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। কামাল এন্টারপ্রাইজের নামের কাজগুলো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহ ওয়ার্ক অর্ডারের চার পার্সেন্ট কমিশনে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছেন।

কুমিল্লা জেলায় জানুয়ারি ২০২২ সালে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১৭টি রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের দরপত্র করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ পার্সেন্ট (১.৫০ কোটি) টাকার বিনিময়ে ৫টি প্যাকেজে ১৫ কোটি টাকার ১০ পার্সেন্ট অ্যাবাভ (বাড়তি) কার্যাদেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া ২টি প্যাকেজে ৬ কোটি টাকার ১০ পার্সেন্ট অ্যাবাভ কার্যাদেশ প্রদান করেন।

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কাজের মূল রেট বিক্রি, বদলি, পদোন্নতি ও কমিশন বাণিজ্যেরও বিস্তারিত অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালকে কল করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। এরপর মুঠোফোনে খুদেবার্তা দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এদিনকে বলেন, এলজিডি প্রতিষ্ঠানটি আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত। এই দুর্নীতির মূল ভূমিকা পালন করেন প্রকৌশলীরা। এ ছাড়া এখানে প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও রাজনীতিবিদরা মিলে ত্রিমুখী দুর্নীতি করেন। এখানে প্রকৌশলী আমলারা মূখ্য ভূমিকায় থাকেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এখানে প্রকৌশলীরা এককভাবে কিছু করেন না। যারা এই যোগসাজশের মধ্যে আছেন তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সাজ্জাদ

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.