ঘুম থেকে ওঠার পর হঠাৎ ঘাড়ে তীব্র ব্যথা কিংবা দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকার পর ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। প্রথমদিকে এটি সামান্য অস্বস্তি মনে হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা তীব্র ব্যথায় রূপ নিতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক ও জীবনযাত্রাজনিত কারণ।
মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজঅর্ডারস বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকা- বিশেষ করে অফিসে কম্পিউটারের সামনে কাজ করা- ঘাড়ের ব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং হঠাৎ পেশিতে টান লাগার ঘটনাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। শুরুতে ঘাড় ঘোরানোর সময় হালকা ব্যথা অনুভূত হলেও ধীরে ধীরে তা ঘাড় ও কাঁধের পেশিকে শক্ত করে তোলে।
তবে এই ব্যথা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে। ল্যাভেন্ডার অয়েল ব্যবহারে অনেকেই উপকার পান, যা প্রাচীনকাল থেকেই ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাশাপাশি হালকা গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে গোসল করলে পেশি শিথিল হয়। তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে আইস প্যাক ব্যবহার করলে প্রদাহ কমে, আর হিটিং প্যাড রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সঠিক ঘুমের ভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি উঁচু বা শক্ত বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ সময় কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া, কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম ঘাড়ের পেশিকে সচল রাখতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপও এই সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত। তাই নিজেকে চাপমুক্ত রাখা, প্রয়োজন হলে মেডিটেশন করা এবং নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা ঘাড়ের ব্যথা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় বা তীব্র আকার ধারণ করে, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









