অবশেষে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত এই চুক্তির প্রথম ধাপের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক শুল্কসংক্রান্ত আইনি পরিবর্তনগুলো কীভাবে চূড়ান্ত খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে কাজ করছেন দুই দেশের আলোচকরা।
মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক, যেখানে উভয় দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। মার্কিন দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চ। আলোচনার মূল লক্ষ্য—চুক্তির বাকি বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে স্বাক্ষরের পথে অগ্রসর হওয়া।
সোমবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পীযূষ গোয়েল বলেন, দুই দেশের মধ্যে অধিকাংশ জটিলতা ইতোমধ্যেই কাটিয়ে ওঠা গেছে। এখন মূলত চুক্তির খুঁটিনাটি দিক—অর্থাৎ আইনি ভাষা ও শর্তাবলীর সূক্ষ্ম সমন্বয়—নিয়ে কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছালেও পরবর্তীতে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আরোপিত পাল্টা শুল্ক বাতিল করলে আলোচনায় সাময়িক স্থবিরতা আসে। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’র তদন্ত শুরু করে এবং প্রায় ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও গতি ফিরে পেয়েছে আলোচনা। পীযূষ গোয়েল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই এই চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এই চুক্তির পর আরও বিস্তৃত ও বড় পরিসরের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
এদিকে, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। ভারতের মতে, এই চুক্তি তাদের দুগ্ধ ও কৃষি খাতকে সুরক্ষা দেবে, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ আরও সহজ করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









