হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সরবরাহ বাড়ার প্রভাবে শুক্রবার (২৬ জুন) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৭ ডলার বা ১ দশমিক ৯৫ শতাংশ কমে ৭৩ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৪৪ ডলার বা ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়ায়।
এদিকে প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো উপসাগরীয় অঞ্চলের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল লোডিং কার্যক্রম শুরু করেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে দুটি বৃহৎ তেলবাহী জাহাজে (ভিএলসিসি) তেল তোলা হচ্ছে এবং আরও একটি জাহাজ অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
স্পার্টা কমোডিটিজের জ্যেষ্ঠ তেলবাজার বিশ্লেষক জুন গোহের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি চীনের চাহিদা প্রত্যাশামতো না বাড়ায় বাজারে বিক্রির চাপ বেড়েছে, যা দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
এর আগের দিন ওমান উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ওই ঘটনার পর জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) নিরাপদে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় জাহাজটিতে ইরানের হামলা হয়েছিল। তবে ইরান দাবি করেছে, নির্ধারিত নৌপথের বাইরে চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তার দায় তাদের নয়।
এদিকে আইএনজি ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চলাচলরত বেশির ভাগ জাহাজ যুদ্ধের সময় উপসাগরে আটকে পড়েছিল। এসব জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছে গেলে তেল পরিবহনের গতি আবার কিছুটা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, বুধবার ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভূমিকম্প তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করলেও দেশটির তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, পাইপলাইন ও রপ্তানি টার্মিনালের প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: সামা টিভি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









