যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির প্রতিবাদে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তাদের দাবি, এ চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ইসরাইল ও লেবানন উভয় দেশ শান্তিপূর্ণভাবে একে অপরের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করার পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে।
তবে হিজবুল্লাহর অবস্থান ভিন্ন। সংগঠনটির দাবি, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরাইলকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা চুক্তি মেনে নেবে না।
চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ জুন) মধ্যরাত থেকে বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। অনেকের হাতে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পতাকা দেখা যায়। একই সময়ে অস্ত্রধারী হিজবুল্লাহ-সমর্থকেরা মোটরযানের বহর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহযুদ্ধের পথ বেছে না নিলে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা লেবানন সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
বৈরুত থেকে আরটির প্রতিবেদক আলী রিদা সেবেইতি জানান, হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্ররা এই চুক্তিকে অপমানজনক হিসেবে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে লেবাননের দখলকৃত এলাকাগুলোতে ইসরায়েল আরও স্বাধীনভাবে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর দুই দিন পর ২ মার্চ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েল বিমান ও স্থল অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করা হয় এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আরসি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









