একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারে দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান বিরোধের সমাধান নিয়ে আলোচনা হবে।
এর আগে যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে বুধবার (১৭ জুন) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একটি সমঝোতায় পৌঁছান। সেই সমঝোতার মধ্য দিয়েই দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনাও তখন তৈরি হয়।
সমঝোতার অংশ হিসেবে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে সেই সমঝোতা স্থায়ী হয়নি। আলোচনার মাঝেই দুই দেশ আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা চালায়, ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেন, "আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
আরেক কর্মকর্তা জানান, আপাতত উভয় পক্ষই সংঘাত থেকে সরে আসবে, যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে এবং আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
এক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার কাতারে আবারও মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা। তিনি সিএনএনকে বলেন, এখন থেকে দুই পক্ষ সংঘাতে জড়াবে না এবং আরও বিস্তৃত আলোচনা চালিয়ে যেতে মঙ্গলবার কাতারের দোহায় বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে।
তবে এর মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। শনিবার তিনি বলেন, ইরান যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রও পুনরায় যুদ্ধে ফিরবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









