কঠিন সময়ে যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, হরমুজ প্রণালিতে তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্দুলরেজা রহমানি ফাজলি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য সার্ভিস ফি চালু করা হবে, যদিও এটিকে টোল বলা যাবে না।
রবিবার (৫ জুলাই) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় চলমান আলোচনার ৬০ দিন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি বা টোল নেওয়া হবে না। তবে এই সময়ের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের জলসীমার অংশ হওয়ায় সেখানে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট সার্ভিস ফি নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।
আব্দুলরেজা রহমানি ফাজলি বলেন, “যেসব দেশ আমাদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিল এবং বিশেষ করে কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের জন্য আমরা অবশ্যই বিশেষ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করব।”
তিনি আরও জানান, নতুন এই ফি আরোপের উদ্দেশ্য রাজস্ব আদায় নয়; বরং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজের গতিবিধি তদারকি করা এবং বিপুল সংখ্যক জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা করা।
যুদ্ধবিরতির পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে আসছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরের পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে জাহাজ থেকে কোনো ধরনের ফি আদায় করা হবে না।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









