কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি (৭৪) মারা গেছেন। খবর আল-জাজিরার।
স্থানীয় সময় রবিবার সকালে (১২ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে দেশটির আমিরের দপ্তর (দিওয়ান) থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
দিওয়ানের বিবৃতিতে বলা হয়, “আল্লাহর ডিক্রি ও ভাগ্যের প্রতি অবিচল বিশ্বাস রেখে, আমিরি দিওয়ান জাতির এই মহান ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি আজ সকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।”
আল-জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন। জ্বালানি সমৃদ্ধ এই দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার পেছনে মূল রূপকার ছিলেন তিনি। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ ব্যবহার করে তিনি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
তার বন্ধুত্বপূর্ণ ও ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের আমলে কাতারের জিডিপি ২৪ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পায়। ২০০৬ সালের মধ্যে কাতারের উত্তর খনি থেকে রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন করে দেশটিকে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারকে পরিণত করেন তিনি। ২০১০ সাল নাগাদ কাতারের এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বার্ষিক ৭৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শেখ হামাদের শাসনকাল কাতারের ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত। তিনি দেশটিতে শিক্ষা ও গবেষণার প্রসারে কাতার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম ‘আল জাজিরা নিউজ চ্যানেল’ চালু করেন।২০০৪ সালে কাতারের প্রথম স্থায়ী সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। পৌরসভা নির্বাচন চালুর পাশাপাশি নারীদের ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করেন।
এছাড়া ‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’ গ্রহণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম দেশ হিসেবে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২’ আয়োজনের অধিকার অর্জন তার নেতৃত্বেই সম্ভব হয়েছিল।
১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে দোহায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হামাদ। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্ট থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার হন। ১৯৭৭ সালে তিনি যুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন তিনি আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তন সাধারণত মৃত্যু বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হতো, সেখানে শেখ হামাদ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ২০১৩ সালের ২৫ জুন তিনি তার ৩৩ বছর বয়সী ব্রিটিশ-শিক্ষিত পুত্র শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে শান্তিপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “ভবিষ্যৎ তোমাদের সামনে, এই মাতৃভূমির সন্তানদের জন্য। তোমরা এমন এক নতুন যুগে পদার্পণ করছ যেখানে তরুণ নেতৃত্ব দেশের পতাকা বহন করবে।”
তার এই চলে যাওয়া কাতারের ইতিহাসে একটি যুগের অবসান ঘটালো। তার মৃত্যুতে পুরো কাতার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









