টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণের পর শনিবার বৃষ্টি কিছুটা কমলেও রোববার (১২ জুলাই) ভোররাত থেকে কক্সবাজারে আবারও শুরু হয়েছে অতিভারী বৃষ্টিপাত। এতে জেলার বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে নতুন করে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। যেসব এলাকা থেকে বন্যার পানি কিছুটা নেমে গিয়েছিল, সেখানে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জেলায় নতুন করে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে এক নারী এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলমান দুর্যোগে কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী মুশফিকুর রহিম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে ওই এলাকার প্রবাসী নাছির উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির ঘরের ভেতর হাঁটুসমান এবং উঠানে কোমরসমান পানি জমে ছিল। শিশুটিকে ঘরে রেখে তার মা বাইরে কাজ করার সময় সবার অগোচরে সে পানিতে পড়ে স্রোতে ভেসে যায়। পরে ঘর থেকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। তিনি ওই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সৈয়দ মোর্শেদ হোসাইন জানান, রাতের খাবারের প্রস্তুতির সময় পাহাড়ঘেঁষা রান্নাঘরে অবস্থান করছিলেন রোজিনা বেগম। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ের মাটি ধসে পড়লে তিনি চাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুল মজিদ সামান্য আহত হন। আব্দুল মজিদ জানান, পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় তিনি স্ত্রীকে বারবার রান্নাঘরে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু রাতের খাবার প্রস্তুত করতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, টানা বৃষ্টিতে জেলার পাহাড়গুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিয়মিত মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হলেও অনেকেই আবার সেখানে ফিরে আসছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









