মালয়েশিয়ার ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান বলেন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ শাহরুল ইকরাম ইয়াকোব মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতি নতুন নয়; এটি বহুদিন ধরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র ও অভিবাসন নীতির অংশ।
হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেন। পরে যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি একই সঙ্গে ইসরাইলের নাগরিক। এরপর মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামে একটি ডিজিটাল নোম্যাড কমিউনিটিকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ইসরায়েলি নাগরিকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মালয়েশিয়া সরকার তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে অংশগ্রহণকারীদের ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র বৈধ পাওয়া গেলেও মঙ্গলবার নেটওয়ার্ক স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আটজন কংগ্রেস সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে চিঠি পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষণার সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়া দেশে অবস্থানরত ইসরাইলি নাগরিকদের শনাক্ত করে দ্রুত বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুনর্ব্যক্ত করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও ইসরাইলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং গাজায় চলমান দমন-পীড়ন, আগ্রাসন ও হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতার নীতিতেই মালয়েশিয়া অটল থাকবে।
আনোয়ার বলেন, “হুমকি দিয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না। আমি মালয়েশিয়ার জনগণের অধিকার রক্ষা করব এবং ইসরাইলি নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখব।”
উল্লেখ, মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা ওয়াশিংটনের প্রতি মালয়েশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে মালয়েশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (আইএমইটি) কর্মসূচির অর্থায়ন স্থগিত করারও সুপারিশ করেছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









