ভারতের আসামে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টি এবং নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সর্বশেষ তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ জনে। বন্যার কারণে তিন লাখেরও বেশি মানুষ এখনও দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ) জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন শিবসাগর জেলা এবং একজন গোলাঘাট জেলার বাসিন্দা। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চলতি বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা ৭৮-এ পৌঁছেছে।
বর্তমানে শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ এবং কামরূপ মহানগর—এই সাতটি জেলার তিন লাখেরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চরাইদেও জেলা। সেখানে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬১ জন মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এরপর রয়েছে শিবসাগর জেলা, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮৪ হাজার ৬০০। জোরহাট জেলায় প্রায় ৪৯ হাজার ৯১১ জন মানুষ বন্যার কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন।
বন্যার পানিতে সাতটি জেলার মোট ২১টি রাজস্ব সার্কেল এবং ৫৫১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে। ফলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সরকারি হিসাবে, বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে ১৬ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া আরও ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে ৩০টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি দলও বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।
বন্যায় মানুষের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে গবাদিপশুরও। এএসডিএমএ জানিয়েছে, প্রবল স্রোতে ১১ হাজারের বেশি পশু ভেসে গেছে। এছাড়া আরও প্রায় ১৭ হাজার গবাদিপশু বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদীর বাঁধ, সড়ক এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
এদিকে শুধু নদীর বন্যাই নয়, কামরূপ মহানগর জেলায় দেখা দিয়েছে নগর বন্যাও। পদুমবাড়ি এবং জু রোডসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই নগর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আসামে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আসাম, অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে তিনসুকিয়া জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
আসামের বন্যা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। লাখো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবিক সংকটের মুখোমুখি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই প্রশাসন, উদ্ধারকারী সংস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









