অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং সেখানকার ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলের আগ্রাসন নথিবদ্ধ ও প্রকাশ করতে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরব ও মুসলিম দেশগুলো।
বুধবার (৫ আগস্ট) জর্ডানে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে গৃহীত যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে পবিত্র স্থান ও উপাসনাকারীদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি আগ্রাসন তুলে ধরা হবে এবং তা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্ব জনমতের সামনে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৈঠকে জেরুজালেমবিষয়ক আরব মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটির সদস্য, আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত এবং তুরস্ক, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীরা জেরুজালেম ও এর পবিত্র স্থানগুলোতে ইসরায়েলের পদক্ষেপ বন্ধে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জেরুজালেমের পরিচয় পরিবর্তনের অভিযোগ
যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, জেরুজালেমের আরব, ইসলামি ও খ্রিস্টান পরিচয় এবং এর আইনগত ও জনমিতিক অবস্থান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরায়েল যে নীতি গ্রহণ করছে, তা অবৈধ।
ঘোষণায় বলা হয়, “জেরুজালেম ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং এর ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হুমকির মুখে।”
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে তার দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে, বসতি নির্মাণ করছে, ভূমি দখল করছে, সম্পত্তি জব্দ করছে, জেরুজালেমের বাসিন্দাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং শহরটিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে।
আল-আকসা মসজিদ নিয়ে উদ্বেগ
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলো ধর্মীয় স্থানগুলোতে ইসরায়েলি পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। বিশেষ করে আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা এবং সেখানে সময় ও স্থানভিত্তিক বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়।
ঘোষণায় বলা হয়, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি নীতির কারণে ধারাবাহিক ও নজিরবিহীন হামলা বাড়ছে। এর মাধ্যমে মসজিদের ইসলামি পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত করার এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কর্মকর্তাদের প্রবেশ, মুসল্লিদের ওপর বিধিনিষেধ, জেরুজালেম ইসলামি ওয়াকফ বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ এবং আল-আকসা মসজিদের আশপাশে খননকাজের মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।
খ্রিস্টান পবিত্র স্থান নিয়েও উদ্বেগ
জেরুজালেমের খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানগুলোতে ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়, পবিত্র সমাধি গির্জায় প্রবেশে বাধা, গির্জার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তির ওপর বিধিনিষেধ এবং ধর্মযাজক, উপাসনাকারী ও ধর্মীয় প্রতীকের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “খ্রিস্টান ধর্মযাজকেরা চরমপন্থীদের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এবং গির্জাগুলো ইসরাইলের প্রণীত কিছু আইনের কারণে তাদের অর্থ ও জমি দখলের প্রচেষ্টার মুখোমুখি হচ্ছে।”
জাতিসংঘ অধিবেশনে আলোচনার আহ্বান
বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা আগামী সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সময় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও আরব লীগের যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানান।
এই বৈঠকে জেরুজালেম এবং এর পবিত্র স্থানগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









