অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১,২০০টি নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের ইসরাইলি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করবে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলবে।
এক যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ জানায়, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা যখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতি নানা বিধিনিষেধের চাপে রয়েছে, তখন নতুন বসতি নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক।
ইসরায়েলের পরিকল্পনাটি মূলত জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ‘ই১’এলাকায়। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরাইল এখানে বড় ধরনের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল।
তবে বুধবার ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ৩,৪০১টি অনুমোদিত আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১,২৩৪টির নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রকাশ করে। এসব ইউনিট গত বছরের আগস্টে ইসরাইলি সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। আগামী ১৯ অক্টোবর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে এর মধ্যে কোনো দরপত্র চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সরকার চাইলেও তা বাতিল করা কঠিন হতে পারে।

‘ই১’ প্রকল্পের বিরোধীরা বলছেন, এর বাস্তবায়ন পশ্চিম তীরকে কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। একই সঙ্গে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংহতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবও ‘ই১’ প্রকল্পকে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সমালোচনার জবাবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ—এমন অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি ইহুদি বসবাস করছেন। একই ভূখণ্ডে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস।
আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক ইসরাইলি সরকারগুলো বসতি সম্প্রসারণ অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালের শেষ দিকে ডানপন্থী ও বসতিপন্থী জোট নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর এই সম্প্রসারণ আরও দ্রুত হয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই ‘ই১’ প্রকল্প নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









