নেপালে ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও, ভয়াবহ ছবি ও ভুয়া ত্রাণের কিউআর কোড সরিয়ে নিতে মেটা ও টিকটককে অনুরোধ করেছে দেশটির সরকার।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারি কর্মকর্তারা। সেখানে বন্যা ও উদ্ধারকাজ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
নেপাল টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের (এনটিএ) পরিচালক ও সরকারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্সের সমন্বয়ক বিজয় কুমার রায় বলেন, কোনো আপত্তিকর বা প্রতারণামূলক পোস্ট সম্পর্কে জানানো হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে মেটা ও টিকটককে বলা হয়েছে।
বন্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো ভিডিওকে নতুন বন্যার দৃশ্য বলে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওকেও বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
ত্রাণের নামে ভুয়া কিউআর কোড ছড়িয়ে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে। এসব প্রতারণার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দেওয়া অর্থ অন্যত্র চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রায় জানান, বর্তমানে অভিযোগ পাওয়ার পর কোনো পোস্ট সরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগছে। সরকার এই সময় আরও কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভয়াবহ ছবি ও ভিডিও দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট নজরদারিতে একটি বিশেষ দলও গঠন করেছে নেপাল সরকার। এতে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, এনটিএ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
সরকার সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে যাচাই ছাড়া কোনো ছবি, ভিডিও বা খবর শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, দুর্যোগের সময় ভুল তথ্য উদ্ধারকাজ ব্যাহত করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ছবি যাচাই ছাড়া ছড়িয়ে দিলে তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









