ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই সহায়তার অংশ হিসেবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেওয়া সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে মাঝআকাশে প্রতিরক্ষামূলক জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স আক্রোতিরি (আরএএফ) ঘাঁটিতে থাকা ‘ভয়েজার’ ট্যাংকার বিমান এই কার্যক্রমে অংশ নেবে।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ‘সামরিক সহায়তার’ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই সহায়তা কার্যক্রমটি ‘কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে রাজধানী রিয়াদসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ হওয়ায় এবং সৌদি আরবের সমর্থন থাকায় এই সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব হামলা প্রতিহত করতেই মূলত যুক্তরাজ্যের সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পথে সাংবাদিকদের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ লাইন সচল রাখা এবং বিশৃঙ্খলা রোধ করার স্বার্থেই সৌদি আরবের এই অনুরোধে যুক্তরাজ্য সম্মত হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









