কানাডীয় ঔপন্যাসিক, কবি ও সাহিত্য সমালোচক মার্গারেট অ্যাটউড যদি কোনো পাখি হতে পারতেন, তিনি হতেন দাঁড়কাক। তার ভাষায়, “ওরা খুব বুদ্ধিমান, সামাজিক, খেলাপ্রিয় এবং সমস্যার সমাধান করতে পারে।”
পাখির প্রতি এই ভালোবাসা থেকেই প্রয়াত সঙ্গী, লেখক গ্রেম গিবসনের স্মরণে কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিকে ১০ লাখ কানাডীয় ডলার দিয়েছেন অ্যাটউড। এই অর্থে তৈরি হবে ‘গ্রেম গিবসন চেয়ার ইন এভিয়ান বায়োলজি’। পাখির চলাফেরা, অভিযোজন ও আচরণ বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত—গবেষণার মূল লক্ষ্য হবে তা বোঝা।
গিবসন মারা যান ২০১৯ সালে। জীবনের শেষ দিকে ভাসকুলার ডিমেনশিয়ার কারণে পাখিদের নাম লিখে রাখতে না পারলেও তিনি প্রতিদিন পাখি দেখতেন। তার লেখা ছিল, পাখি দেখা কখনো কখনো মানুষকে ‘পরমানন্দের কাছাকাছি’ এক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে।
অ্যাটউড ও গিবসন দুই দশকের বেশি আগে পিলি আইল্যান্ড বার্ড অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কানাডার পিলি দ্বীপটি আটলান্টিক ও মিসিসিপি পরিযায়ী পথের সংযোগস্থলে। প্রতি বসন্তে সেখানে ২০০টির বেশি প্রজাতির পাখি আসে।

ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এভিয়ান গবেষণার সহপরিচালক ক্রিস গুগলিয়েলমো বলেন, পাখি কীভাবে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র অনুভব করে এবং হাজার হাজার কিলোমিটার পথ চিনে নেয়, তা নিয়ে এখনো বড় রহস্য রয়ে গেছে। তার ভাষায়, এমন লাখো প্রশ্ন আছে, যার উত্তর আমরা জানি না।’
পাখিদের জন্য অবশ্য সময় ভালো যাচ্ছে না। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০ সালের পর প্রায় ৩০০ কোটি পাখি হারিয়েছে। হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ব্ল্যাকপোল ওয়ার্বলার গত পাঁচ দশকে ৮০ শতাংশের বেশি কমেছে।
অ্যাটউডের মতে, পাখিদের বড় চার হুমকি হলো কাচের জানালা, বিড়াল, বিষাক্ত দূষণ এবং আবাসস্থল ধ্বংস। শেষেরটি সবচেয়ে বিপদজ্জনক। ‘মানুষ ভাবে, এই বনটা কেটে ফেলি, পরে অন্য জায়গায় আরেকটা বন বানিয়ে দেব। কিন্তু সেটা একই হবে না। পাখিদের নির্দিষ্ট আবাসস্থল দরকার। বিষয়টা পাউরুটিতে মাখন ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।’
প্রকৃতির প্রতি অ্যাটউডের টান শৈশব থেকেই। বন-প্রকৃতিবিদ বাবার সঙ্গে অন্টারিওর বনাঞ্চলে বড় হয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, প্রকৃতির প্রতি কৌতূহল মানুষের সহজাত। ‘আমরা প্রকৃতিরই অংশ। প্রকৃতির মধ্যে কীভাবে থাকব, সেটা আমাদের পছন্দ।’
অ্যাটউড মনে করেন, তরুণদের মধ্যে পাখি দেখার আগ্রহ বাড়ছে—এটিই আশার কথা। তার মতে, কোনো কিছুর প্রতি তরুণদের আগ্রহ না থাকলে সেটি হারিয়ে যায়। কিন্তু পাখি দেখা হারাচ্ছে না, বরং বাড়ছে।
ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত হলেও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অ্যাটউড পুরোপুরি হতাশ নন। তার ভাষায়, ‘ইউটোপিয়া অসম্ভব। কিন্তু আরও ভালো কিছু পাওয়ার সম্ভাবনায় বিশ্বাস না থাকলে শেষ পর্যন্ত ডিস্টোপিয়াই তৈরি হবে।’
আর শেষে তার স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা: ‘স্বর্গ বানানোর চেয়ে নরক বানাতে আমরা অনেক বেশি দক্ষ। যদিও আমার মনে হয়, স্বর্গও বেশ একঘেয়ে হতে পারে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









