জি৭ভুক্ত দেশগুলো শুক্রবার বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এর আগে যে ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিল, তা আরোপ করবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের এক ভিডিও সম্মেলনের পর শুক্রবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউরোপকে কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল ছাড়তে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর ম্যাখোঁ এই বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র—জি৭-এর অন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রেও পড়েছে। সেখানে জ্বালানির উচ্চমূল্য এখন বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে এক মাস পর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে।
ট্রাম্প এর আগে ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহনে ব্যবহৃত ডিজেলের রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয় ছিল, কারণ ইইউ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জি৭ নেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল সমন্বিতভাবে বাজারে ছাড়া হবে। আগামী চার মাসে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে।
নেতারা আরও জানিয়েছেন, জি৭ দেশগুলোর মধ্যে ডিজেল রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, জি৭ দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও জ্বালানি-সম্পর্কিত পণ্যের রপ্তানিতে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা না দিতে সব উৎপাদক দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বাজারের চাপ আরও বাড়াতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানির দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এখনো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।
পরে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপের কাছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল রয়েছে এবং তারা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের অবদান রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রও এতে অংশ নেবে। তিনি ইউরোপের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ-
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর তীব্র বিরোধিতা করে। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁও এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছিলেন।
এর এক দিন আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়ান। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ডিজেল সংকটের বোঝা যেন মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর গিয়ে না পড়ে।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটও ব্রিটিশ জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াটা ফাহনবুল্লাহর সঙ্গে এ সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাজ্যের কৌশলগত জ্বালানি মজুতের বিষয়ও এসময় তাদের আলোচনায় আসে।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









