ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক ভোটারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী নেতারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলার কথা।
বিরোধী দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে তাদের ভোট দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিবারম্যান লেখেন, ‘ভোট দিন। আসুন, নেতানিয়াহুর যুগ এবং অতি-গোঁড়া ইহুদি ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর শাসনের অবসান ঘটাই।’
২০২২ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইসরায়েলের বর্তমান ডানপন্থী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু। তার সরকারকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হলে তার দলকে নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে আইজেনকট লেখেন, ‘পরিবর্তন আনা এবং নেতানিয়াহুকে সরানোর একমাত্র পথ হলো ইয়াশারের পথ।’
আইজেনকট ও নেতানিয়াহু—দুজনই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের জন্য দুটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধানকে সমর্থন করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের আইনপ্রণেতা গিলাদ কারিভও ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি করেছে এই নির্বাচন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে কারিভ বলেন, গত চার বছর ধরে যে লড়াই তারা চালিয়ে এসেছেন, আজ সেই লড়াই ভোটের বাক্সে নেওয়ার সময় এসেছে। তিনি নির্বাচনের দিনকে ‘আশার চার বছরের সূচনা’ বলেও উল্লেখ করেন।
কারিভ সতর্ক করে বলেন, নেতানিয়াহু ও তার মিত্ররা ভুয়া খবর এবং বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়িয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারেন। এসব অপপ্রচারের জবাব দিতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন
নির্বাচনটিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৭৬ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন। তার বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনে বিরোধী নেতাদের মূল লক্ষ্য নেতানিয়াহুর দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানো। তবে ভোটারদের উপস্থিতি, দলগুলোর আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের সমীকরণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের ক্ষমতায় কারা থাকবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









