ইরানকে ৯০টি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সরবরাহের চুক্তি করেছে রাশিয়া। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যে মস্কো ও তেহরানের ঘনিষ্ঠতা নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ইরানকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সরবরাহের চুক্তি করে রাশিয়া।
রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নথির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
চুক্তির আওতায় সরবরাহের কথা থাকা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো রাশিয়ার তৈরি এলএমইউআর বা ইজদেলিয়ে-৩০৫ নামের নির্ভুল নিশানাভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এগুলো মূলত এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে ব্যবহারের জন্য তৈরি। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।
তবে চুক্তি অনুযায়ী ৯০টি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ইরানের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি আল জাজিরা।
পুতিনের সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তার বৈঠক
অস্ত্র সরবরাহের চুক্তির খবর প্রকাশের এক দিন আগে ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠক করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির বার্তা নিয়ে তিনি ক্রেমলিনে যান।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে দুই দেশের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির আরও উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনার কথা জানানো হয়েছে।
রেজাই বলেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
সামরিক সহযোগিতা বাড়ছে দুই দেশের
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে গোলাবারুদ, কামানের গোলা, আগ্নেয়াস্ত্র, স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম দিয়েছে ইরান। রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহের বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া। সম্প্রতি ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, তেহরান রাশিয়ার কাছ থেকে এসইউ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনেছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই বছরের অক্টোবর থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়। তবে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার চুক্তির মতো এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহায়তার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রাখছে মস্কো
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা খুবই সামান্য, এমনকি প্রায় নেই বললেই চলে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরান পারস্পরিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও মস্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ পরিস্থিতিতে ইরানকে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









