নিউ জিল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে ভোট গণনার সর্বশেষ প্রাথমিক ফলে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুকসনের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট। তবে নির্বাচনে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই নিশ্চিত বিজয় দাবি করতে পারেনি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট গণনা শেষে লুকসনের ন্যাশনাল পার্টি এবং তাদের দুই জোটসঙ্গী অ্যাক্ট পার্টি ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট সম্মিলিতভাবে ৬৭টি আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। দেশটির ১৩০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬৬টি আসন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে মাত্র একটি আসন বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই জোটের।
অন্যদিকে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্সের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট পেয়েছে ৫৬টি আসন। এর মধ্যে লেবার পার্টির ৩৫টি, গ্রিন পার্টির ১৬টি এবং মাওরি অধিকারভিত্তিক তে পাতি মাওরির পাঁচটি আসন রয়েছে।
ভোটের ফলাফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লুকসন বলেছেন, পার্লামেন্টে তার দল আবারও সবচেয়ে বড় দল হিসেবে অবস্থান করছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের পথ তাদের সামনে খোলা রয়েছে। তবে ফলাফল এখনো এতটাই কাছাকাছি যে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে লেবার পার্টির নেতা হিপকিন্সও পরাজয় স্বীকার করেননি। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ডের জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে। তবে সেই মতামতের প্রকৃত অর্থ বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
নির্বাচনে নতুন দল অপরচুনিটির উত্থান
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো নতুন রাজনৈতিক দল অপরচুনিটির উত্থান। ৩৮ বছর বয়সী কিউলায়ে ওংয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি প্রথমবারের মতো পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দলটি ৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে সাতটি আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
সরকার গঠনে দলটির সমর্থন প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রয়োজনে রক্ষণশীল কিংবা বামপন্থী—উভয় পক্ষের সঙ্গেই আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ওং। অন্যদিকে লুকসন তার দলের সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
বিশেষ ভোটে বদলে যেতে পারে ফলাফল
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে বিশেষ ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এবং নির্বাচনের দিন নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে থাকা ভোটারদের দেওয়া এসব ভোট এখনো গণনা বাকি।
অতীতের চারটি নির্বাচনে বিশেষ ভোট গণনার পর ন্যাশনাল পার্টির আসনসংখ্যা এক থেকে দুটি কমেছে। বিপরীতে বামপন্থী দলগুলো এক থেকে তিনটি অতিরিক্ত আসন পেয়েছে। এবারও বিশেষ ভোটের ফলাফল সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে।
এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে ন্যাশনাল পার্টির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার আসন হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিকোলা উইলিস, পার্লামেন্টের স্পিকার গেরি ব্রাউনলি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পল গোল্ডস্মিথ এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস বিশপ।
অর্থনৈতিক সংকটেও চাপে প্রধান দলগুলো
বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বেকারত্বের মতো অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ভোটারদের মধ্যে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতি আগ্রহ কমেছে। এর ফলে ছোট দলগুলো এবারের নির্বাচনে তুলনামূলক বেশি সমর্থন পেয়েছে।
উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ভোট দেন। একটি পছন্দের রাজনৈতিক দলকে এবং অন্যটি নিজ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। প্রায় ৩৮ লাখ ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
দেশটির নির্বাচন কমিশন আগামী ২৭ নভেম্বর বিশেষ ভোটসহ চূড়ান্ত ও যাচাইকৃত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। এরপর সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে জোট আলোচনা শুরু হবে। সব মিলিয়ে নতুন সরকার গঠনে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









