যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সমর্থনে ফাটল ধরেছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে জনমত বদলে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অর্থ ঢালতে গিয়ে বিতর্কে পড়েছে ইসরায়েলপন্থী শক্তিশালী সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এআইপ্যাক)। এর বিপরীতে গড়ে উঠেছে নতুন অর্থায়নকারী গোষ্ঠী আমেরিকান প্রায়োরিটিজ। সদ্য শেষ হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই দুই পক্ষের প্রভাব বিস্তারের লড়াই মার্কিন কংগ্রেসের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি জয়ী হওয়ার পরদিনই ম্যানহাটনের সোহো এলাকায় এক বৈঠকে বসেন তার কয়েকজন বড় অর্থদাতা। মামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। নির্বাচনী প্রচারে তিনি গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করতেও রাজি হননি তিনি।
সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোর বিরুদ্ধে মামদানির নির্বাচনী প্রচারে ‘নিউইয়র্কার্স ফর লোয়ার কস্টস’ নামের একটি বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলের মাধ্যমে ৩৪ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছিলেন তার সমর্থকেরা। তবে নির্বাচনে মামদানির জয়ের পর সোহোর সেই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল না জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো। বরং তাদের আগ্রহ ছিল, ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের পক্ষে তৈরি হওয়া জনসমর্থনকে কীভাবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়।
বৈঠকে উপস্থিত সাতজন বড় দাতা মনে করছিলেন, মামদানির জয় প্রমাণ করেছে, ইসরায়েল ইস্যুতে জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে। তারা কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে একই ধরনের প্রচার চালাতে চেয়েছিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মামদানির নতুন সমর্থক এবং ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ডে সম্প্রতি সক্রিয় হওয়া কয়েকজন ধনী মুসলিম ব্যবসায়ী। প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের সূত্রে তাদের পরিচয় হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত।
বৈঠকে একজন ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার, আরেকজন ৫০ হাজার ডলার এবং অন্য একজন ৫ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ পর্যন্ত সেদিনই মোট ৪৫ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়। এ অর্থের ভিত্তিতেই গড়ে ওঠে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন ‘আমেরিকান প্রায়োরিটিজ’। সংগঠনটির লক্ষ্য ছিল, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা করা এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে ব্যয়ের পক্ষে জনমত তৈরি করা।
এআইপ্যাকের মোকাবিলায় নতুন শক্তি
যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলপন্থী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন এআইপ্যাক। কয়েক দশক ধরে দুই দলের রাজনীতিকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে সংগঠনটি মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অর্থ ব্যয় করার কারণে সংগঠনটি নতুন বিতর্কের মুখে পড়ে।
২০২১ সালের শেষ দিকে এআইপ্যাক নিজস্ব রাজনৈতিক তহবিল গঠন করে। এর সঙ্গে যুক্ত বিশেষ রাজনৈতিক তহবিল ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ পরবর্তী দুটি নির্বাচনী চক্রে ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় করে। চলতি নির্বাচনী চক্রে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুধু এই তহবিলই ৫ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এআইপ্যাকের অন্য সহযোগী সংগঠনগুলোর ব্যয় এর বাইরে।
অন্যদিকে আমেরিকান প্রায়োরিটিজ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। শেষ পর্যন্ত তারা প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করে। সংগঠনটির অন্যতম প্রাথমিক অর্থদাতা ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ ওয়াকাস জাভেদ ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন। তার ভাষায়, এআইপ্যাকের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। তবে কোথায় অর্থ ব্যয় করলে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা সম্ভব, সেটিই ছিল তাদের কৌশল।
এই নতুন সংগঠনের আবির্ভাবের পেছনে শুধু অর্থের হিসাব ছিল না। গাজা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থনে পরিবর্তন আসছিল। একই সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে এআইপ্যাকের সরাসরি ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছিল। ফলে আমেরিকান প্রায়োরিটিজ এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ পেয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করা আগের তুলনায় বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
যেভাবে বদলেছে এআইপ্যাকের কৌশল
১৯৫০-এর দশকে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন এআইপ্যাক প্রকাশ্য নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে ছিল। সংগঠনটির মূল কাজ ছিল কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ইসরায়েলের পক্ষে নীতিগত সমর্থন নিশ্চিত করা। প্রার্থীদের নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহায়তা করলেও সংগঠনের কর্মীদের সরাসরি অর্থ সংগ্রহ বা বিতরণের কাজে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ ছিল।
এআইপ্যাকের সাবেক এক আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিচালক জানান, সংগঠনটির কর্মীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারতেন না। প্রার্থীদের মূল্যায়ন বা সমর্থন দেওয়ার দায়িত্বও তাদের ছিল না। এর উদ্দেশ্য ছিল, ইসরায়েল ইস্যুকে দলীয় রাজনীতির সংঘাতের বাইরে রাখা।
তবে সময়ের সঙ্গে সেই ঐকমত্য দুর্বল হতে থাকে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও রিপাবলিকানরা ওই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। সে বছর কংগ্রেসে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করেন কয়েক ডজন ডেমোক্র্যাট।
২০১৮ সালে নির্বাচিত প্রগতিশীল আইনপ্রণেতারাও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। ওই বছর পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ২৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ইসরায়েলের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। ১৯৭৮ সালের পর এটি ছিল সর্বনিম্ন হার। বিপরীতে রিপাবলিকানদের ৭৯ শতাংশ ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।
এই পরিবর্তনের মুখে ২০২১ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেয় এআইপ্যাক। ২০২২ সালের কংগ্রেস নির্বাচনে সংগঠনটি ডেমোক্রেটিক পার্টির নয়টি প্রার্থী বাছাইয়ের লড়াইয়ে অর্থ ব্যয় করে। এর মধ্যে সাতটিতে তাদের সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হন। ব্যয় হয় প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
নর্থ ক্যারোলাইনার নির্বাচনে প্রগতিশীল মুসলিম নারী প্রার্থী নিদা আল্লামের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ। বার্নি স্যান্ডার্সের হয়ে কাজ করা আল্লাম ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মুসলিম নারী ও হিজাব পরা প্রার্থীদের এআইপ্যাক বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করে। এআইপ্যাক অবশ্য তার অভিযোগের জবাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।
ওই নির্বাচনে এআইপ্যাকের সহযোগী তহবিল ২১ লাখ ডলার ব্যয় করে ভ্যালেরি ফুশের পক্ষে প্রচার চালায়। শেষ পর্যন্ত ফুশে ১০ শতাংশ ব্যবধানে জয়ী হন। তার নিজের নির্বাচনী প্রচারের ব্যয়ের তুলনায় এআইপ্যাকের ব্যয় ছিল প্রায় দ্বিগুণ।
গাজা যুদ্ধ বদলে দিল রাজনৈতিক হিসাব
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে একই সঙ্গে কংগ্রেসে ইসরায়েলের সমালোচকদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের নির্বাচনী চক্রে এআইপ্যাকের সহযোগী তহবিলের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। এর বড় অংশ ব্যয় করা হয় গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করা ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতাদের পরাজিত করতে। রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যয় করা হয় মাত্র ৩০ লাখ ডলার। নিউইয়র্কের একটি প্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনেই ব্যয় হয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে বিরোধ আরও গভীর হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসা অনেক আইনপ্রণেতাও নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেন।
এর প্রভাব পড়ে ভ্যালেরি ফুশের ওপরও। ২০২৪ সালে এআইপ্যাক-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের আয়োজনে ইসরায়েল সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি। একসময় এমন সফর নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হতো না। কিন্তু গাজা যুদ্ধের পর তার নির্বাচনী এলাকায় এ সফর নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে ফুশে ইসরায়েলে অস্ত্র বিক্রি সীমিত করার একটি প্রস্তাবের সহ-উদ্যোক্তা হন এবং ঘোষণা দেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এআইপ্যাকের কাছ থেকে কোনো অনুদান নেবেন না। এরই মধ্যে এআইপ্যাকও তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়।
নির্বাচনে মুখোমুখি দুই পক্ষ
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগায় আমেরিকান প্রায়োরিটিজ। নর্থ ক্যারোলাইনার নির্বাচনে নিদা আল্লামের পক্ষে ১০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করে তারা। তবে ফুশে শেষ পর্যন্ত এক শতাংশেরও কম ব্যবধানে জয়ী হন। প্রায় এক হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান আল্লাম।
এই পরাজয় সত্ত্বেও আমেরিকান প্রায়োরিটিজ নিজেদের কৌশলকে সফল মনে করে। একই দিনে টেক্সাসের একটি নির্বাচনী এলাকায় মাত্র এক লাখ ডলার ব্যয় করে তাদের সমর্থিত প্রার্থী ফ্রেডেরিক হেইনস তৃতীয় জয়ী হন। এরপর তারা এমন আসনে অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে তুলনামূলক কম অর্থ দিয়ে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলা সম্ভব।
নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, ডেনভার ও মিনেসোটার বিভিন্ন নির্বাচনে তারা অর্থ ব্যয় করে। সংগঠনটির দাবি, এসব আসনে তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনেও দুই পক্ষের লড়াই ছিল তীব্র। সেখানে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও এআইপ্যাক-সমর্থিত হ্যালি স্টিভেনসের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। ইসরায়েল ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান নির্বাচনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে। এল-সায়েদের পক্ষে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ডলার ব্যয় করে আমেরিকান প্রায়োরিটিজ। শেষ পর্যন্ত অল্প ব্যবধানে জয়ী হন এল-সায়েদ।
এআইপ্যাকের পিছু হটা, সামনে নতুন সমীকরণ
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে প্রার্থীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার কৌশল থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় এআইপ্যাক। সংগঠনটি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের বিশেষ রাজনৈতিক তহবিলের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না। পছন্দের প্রার্থীদের সরাসরি অনুদান দেওয়ার জন্যও সমর্থকদের উৎসাহিত করবে তারা।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইসরায়েলবিষয়ক রাজনীতির পর্যবেক্ষক জোয়েল রুবিনের মতে, এআইপ্যাকের নতুন নির্বাচনী কৌশল মাত্র পাঁচ বছরের পুরোনো। কিন্তু এই কৌশল সংগঠনটির ভাবমূর্তি ও কংগ্রেসের সদস্যদের ওপর প্রভাব—দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে নতুন কংগ্রেসে আমেরিকান প্রায়োরিটিজের সমর্থন পাওয়া ১৩ জন আইনপ্রণেতা যোগ দিতে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য এবং দুজন সিনেটর। অন্যদিকে এআইপ্যাকের প্রভাবে আগে নির্বাচিত কয়েকজন আইনপ্রণেতার অবস্থানও বদলে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনের দিন তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ হবে। পরদিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধ ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে দায়ী করেন।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরোর মতে, ইসরায়েলকে প্রচলিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা শেষ হওয়ার পথে। ভবিষ্যতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা, গাজার পুনর্গঠন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়েও ওয়াশিংটনে নতুন দাবি উঠতে পারে।
তবে এআইপ্যাকের প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে, এমনটা মনে করার কারণ নেই। সংগঠনটি দাবি করেছে, এবারের নির্বাচনে তারা ইসরায়েলপন্থী ২৯০ জন প্রার্থীকে জয়ী হতে সহায়তা করেছে এবং ইসরায়েলের সমালোচক ২৯ জনকে পরাজিত করতে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়া কংগ্রেসে রক্ষণশীল এলাকার নতুন সদস্যদের উপস্থিতিও ইসরায়েলবিষয়ক নীতিতে প্রগতিশীলদের প্রভাব সীমিত করতে পারে।
একসময় ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এআইপ্যাকের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন ভ্যালেরি ফুশে। এবার তৃতীয় মেয়াদে কংগ্রেসে ফিরছেন তিনি। তবে এবার তার সামনে থাকবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন অবস্থানের নতুন রাজনৈতিক শক্তি।
মামদানির নির্বাচনী সাফল্য থেকে শুরু হওয়া যে অর্থায়ন ও রাজনৈতিক উদ্যোগের যাত্রা, তা এখন আর শুধু কয়েকজন দাতার কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে ইসরায়েল ইস্যু যে ক্রমেই দলীয় বিভাজনের কেন্দ্রে চলে আসছে, সাম্প্রতিক নির্বাচন তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সংগঠন এআইপ্যাক।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









