রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি ইরানের অন্তত ৫টি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটেছে। রাজধানী তেহরানে অবস্থিত দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। খবর আল–জাজিরার।
তেহরানে হামলার শিকার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো হলো– গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা।
হামলার শিকার শহরগুলো হলো- ইস্ফাহান, কোম, লোরেস্তান, কারাজ, কেরমানশাহ এবং তাবরিজ।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরনা তাদের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
আজ শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯ টার দিকে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়। তার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে এই ৬ শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এবং ইরনা।
ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তেহরানে যে স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, তার কাছেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তর।
ইরানে শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের ওপর ট্রাম্প তার মার-আ-লগোর বাসভবন থেকে নজর রাখছেন বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা।
সকালে ইসরায়েল হামলা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রও যে তাতে আছে ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প তা নিশ্চিতও করেন।
“অনেক বছর ধরে আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়ে আসছিলেন, কিন্তু কখনো পাননি। কোনো প্রেসিডেন্টই এটা করতে আগ্রহী ছিল না, যা করতে আমি রাজি হয়েছি। এখন আপনারা এমন এক প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন যে আপনাদেরকে যা চেয়েছিলেন তা দিয়েছে, এখন দেখি আপনারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান।
“প্রবল পরাক্রম ও বিধ্বংসী শক্তি নিয়ে আমেরিকা আপনাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এখনই সময় আপনার ভাগ্যের দখল নেওয়ার এবং আপনাদের নাগালের মধ্যেই যে সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যৎ রয়েছে, তা ছিনিয়ে নেওয়ার। এটা পদক্ষেপ নেওয়ার সময়, একে চলে যেতে দেবেন না,” বলেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানকে ‘ব্যাপক ও চলমান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মার্কিনিদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ হামলা চালানো হচ্ছে।
“আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র খাত মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি।
“তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সব সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে, আমরা আর পারছি না,” বলেছেন তিনি।
এ অভিযানে মার্কিন সেনাদের প্রাণও যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
“ইরানি শাসকরা হত্যা করতে চাইতে পারে। সাহসী মার্কিন নায়করা প্রাণ হারাতে পারেন, আমাদের দিক থেকে প্রাণহানি হতে পারে, যুদ্ধে প্রায়ই এটা হয়। কিন্তু আমরা এটা এখনকার জন্য করছি না, করছি ভবিষ্যতের জন্য, এবং এটা একটা মহৎ অভিযান,” বলেছেন তিনি।
সূত্র : সিএনএন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









