ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা ও রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহের জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন ও রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।
ইরানে হামলায় ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রায় ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। একটি গোয়েন্দা সূত্র এবং একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির অংশীদার বিসিএস নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি এসব কর্মকর্তা একসঙ্গে নাকি আলাদা হামলায় নিহত হয়েছেন, সেটাও স্পষ্ট নয়।
দাবি করা হয়েছে, হামলায় নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও আছেন। তবে খামেনির নিহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটাই করেনি ইরান সরকার।
দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর।
গতকাল (শনিবার) সকালে খামেনির প্রাসাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা। তারপর রাতের দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমে খামেনি নিহত হয়েছেন বলে জানান। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, খামেনির নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেন।
সরকারিভাবে ইরান প্রথমে খামেনির নিহতের তথ্য স্বীকার করেনি। অবশেষে আজ রোববার বাংলাদেশ সময় সকালে খামেনির নিহত হওয়ার তথ্য স্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানে ক্ষমতাসীন শিয়াপন্থি ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সামরিক বিভাগ, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বিভাগ-সহ দেশটির সর্বক্ষেত্রে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং সর্বব্যাপী। মূলত তার নির্দেশনাতেই ইরানের সরকার চলতো।
১৯৭৯ সালে ইরানের তৎকালীন শাহ (রাজা) মুহম্মদ রেজা শাহ পাহলভিকে হটিয়ে ইরানের জাতীয় ক্ষমতা দখল করে শিয়াপন্থি বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী, শাহবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং কমিউনিস্ট দলগুলো। সেই বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। বিপ্লবের পর তিনি হন ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
১৯৮৯ সালে বয়সজনিত অসুস্থতায় মারা যান খোমেনি। তার মৃত্যুর পর দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সূত্র : সিএনএন, এক্সিওস


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









