কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এই প্রস্তাবটি সিনেটের বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রস্তাবের সমর্থকদের মতে, হাড্ডাহাড্ডি ভোটে এটি পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।
কারাকাসে নাটকীয় এক সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় নৌযানে হামলাসহ দেশটির ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধকালীন ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিতে একাধিক প্রস্তাব তুলছেন কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
এর আগে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে এ ধরনের প্রস্তাব রিপাবলিকান সিনেটরদের বাধায় আটকে যায়। তবে সর্বশেষ এক ভোটে ব্যবধান ছিল মাত্র ৪৯–৫১। সে সময় ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। তখন প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন বা দেশটির ভূখণ্ডে সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই।
মাদুরো আটক হওয়ার পর সেই বক্তব্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কিছু আইনপ্রণেতা। ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ্যে এবং রিপাবলিকানরা আড়ালে থেকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনেছেন।
ভোটের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবটির সহ-উপস্থাপক কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল বলেন, আগে যারা এই প্রস্তাবে সমর্থন দেননি, এমন অন্তত দুজন রিপাবলিকান এবার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, তারা কীভাবে ভোট দেবেন তা নিশ্চিত নয়, তবে দ্বিধায় রয়েছেন এটিই প্রস্তাবের পক্ষে আশার ইঙ্গিত। এ সময় তার পাশে ছিলেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন, যিনি প্রস্তাবটির আরেক নেতা।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। প্রস্তাবটি পাস হলে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে আগ্রহী আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি বড় সাফল্য হবে। তবে আইনে পরিণত করতে হলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এটি পাস হওয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে হবে। সে জন্য উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে।
এদিকে বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান। সিনেটর টিম কেইন বলেন, ভেনেজুয়েলার নৌযানে একাধিক হামলা, তেল জব্দ এবং অতীতের সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত সব মিলিয়ে এটি কোনো সীমিত গ্রেপ্তার অভিযান নয়, বরং বৃহত্তর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে প্রস্তাবের বিরোধীরা বলছেন, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান, সরাসরি যুদ্ধ নয়। তাদের যুক্তি, সর্বাধিনায়ক হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্ট সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরু করতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়।
সূত্র: রয়টার্স


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









