শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

The Daily Adin Logo
The Daily Adin Logo

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ: আদালত

প্রকাশিত: ০১ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম

আপডেট: ০১ মে ২০২৬, ১০:২৯ এএম

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ: আদালত

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়াকে কঠিন করে তুলতে যেসব নীতি অবলম্বন করছে মার্কিন প্রশাসন— সেসব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট।

গতকাল এক রায়ে ডিস্ট্রক্ট কোর্টের বিচারক জুলিয়া কোবিক বলেছেন, মার্কিন প্রশাসনের এসব নীতি বৈষম্যমূলক এবং অবৈধ।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য বিশ্বের ৩৯টি দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সঙ্গে এই ৩৯টি দেশের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড এবং স্থায়ী আবাসনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন— সেসব আবেদন পর্যালোচনাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট) অধীন মার্কিন নাগরিক ও অভিবাশন পরিষেবা সংস্থা (ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস- ইউএসসিআইএস) ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি নীতি গ্রহণ করে। সেই নীতির আওতায় আংশিক কিংবা পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের আবেদনপত্র পর্যালোচনার সময় তাদের জাতীয়তাকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নেতিবাচক বিষয়’ হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন এ নীতি নেওয়ার পর তা বাতিলের আবেদন করে ডিসেম্বরে ম্যাসাচুসেটসের রাজধানী বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন ইরান, হাইতি, ভেনেজুয়েলা, সিরিয়াসহ নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশগুলোর সারিতে থাকা ২০টি দেশের ২০০ জন নাগরিক। মামলায় বিবাদি করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট) অধীন সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস বিভাগকে।  

গতকাল সেই মামলার রায় ঘোষণা করেছেন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জুলিয়া কোবিক। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদন পর্যালোচনায় যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন— রায়ে সেই সেই স্থগিতাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেছেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা আবেদনপত্র যাচাইয়ে যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন এবং মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নির্দেশের পরিপন্থি।

কোবিক ২২ জন বাদীর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইএস-কে এই নীতিগুলো প্রয়োগ করা থেকে বিরত রাখেন, যারা এই নীতিগুলোর দ্বারা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ঘোষণাপত্র জমা দিয়েছিলেন। তিনি পক্ষগুলোকে আলোচনা করার নির্দেশ দেন যে তার এই আদেশ বাকি ২০০ জনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কিনা।

মামলার যে ২০০ জন বাদি ছিলেন, তাদের মধ্যে ২২ জনের ওপর মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার স্থগিতাদেশ বাতিল করেন বিচারক জুলিয়া কোবিক। সেই সঙ্গে বাকি বাদিদের ওপর থেকেও স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে কি-না— সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী জিম হ্যাকিং এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস দপ্তর ৩৯ দেশেল নাগরিকদের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া কঠিন করতে চায়, যদিও কংগ্রেস এই নীতি কখনও অনুমোদন করেনি।”

ফেডারেল আদালত রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল এএফপি, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র : রয়টার্স, এনডিটিভি অনলাইন

Advertisement
এদিনের সব

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: মো. সাইদুল ইসলাম সাজু
নির্বাহী সম্পাদক: খন্দকার মোজাম্মেল হক

শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস ২৮/বি, টয়েনলি সার্কুলার রোড, মতিঝিল-১০০০, ঢাকা থেকে মুদ্রিত

যোগাযোগ করুন

টাওয়ার-এ (২য় তলা), হাউস-১৩, রোড-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।

০২-২২৬৬০৩৩৫২

০১৮৯৭-৬৬৪৬৫৬

ইমেইল : dailyadinbd@gmail.com

আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া

facebookyoutubetiktok

© স্বত্ব ২০২৬, দৈনিক এদিন

Design & Developed byBongosoft Ltd.