ইরান যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এমন এক সময়ে এ ভোটাভুটি হলো, যার পরদিনই (আজ শুক্রবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর একটি আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে।
সিনেটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়। এ ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান পার্টির মাত্র দুজন সদস্য—মেইন অঙ্গরাজ্যের সুসান কলিন্স ও কেনটাকির র্যান্ড পল দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনো রিপাবলিকান সদস্য হিসেবে কলিন্স এমন প্রস্তাবে সমর্থন দিলেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার জন ফেটারম্যান ছিলেন একমাত্র ডেমোক্র্যাট সদস্য, যিনি প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এ পদক্ষেপের ফলে আট সপ্তাহে গড়িয়ে যাওয়া ইরান যুদ্ধের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আরও একটি সুযোগ হারাল কংগ্রেস।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ অনুযায়ী, ট্রাম্পের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আজকের ১ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের একতরফা যুদ্ধ ক্ষমতা সীমিত করতে এই আইন করা হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি মার্কিন বাহিনীকে কোনো যুদ্ধে নিয়োজিত করেন, তবে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন না পেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে সেনা প্রত্যাহারের নিরাপত্তার খাতিরে প্রেসিডেন্ট চাইলে এই মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়িয়ে নিতে পারেন। গত ২ মার্চ ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানে শুরু করা মার্কিন সামরিক অভিযানের কথা জানায়। সেই হিসেবে আজ শুক্রবারই এ সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
অনেক আইন বিশেষজ্ঞ ও পার্লামেন্ট সদস্যের মতে, শুক্রবারের পর কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন। ভোটের পর এক বিবৃতিতে সুসান কলিন্স বলেন, ‘কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা অসীম নয়। সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ বা শান্তির বিষয়ে কংগ্রেসের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে। ৬০ দিনের এই সময়সীমা কোনো পরামর্শ নয়, এটি একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









