দক্ষিণ লেবাননে জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ জারি করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে এবং ওই এলাকায় জোরপূর্বক উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক্স-এ জানিয়েছে, সর্বশেষ জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশের আওতায় রয়েছে কাকাইত আল-জিসর, আদচিত আল-শাকিফ, জেবচিত, এব্বা, কাফার জৌজ, হারুফ, আল-দুওয়াইর, দেইর এজ-জাহরানি এবং হাব্বুশ।
শুক্রবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো ও ভবন লক্ষ্য করে অন্তত অর্ধ ডজন ইসরাইলি হামলা চালানো হয়। ঐ হামলাগুলোতে নারী ও শিশুরাও নিহত ও আহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে নয়টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও এখানকার পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ।
থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া হাজার হাজার লেবানীয় মানুষ এখন দক্ষিণ লেবাননে ফিরে এসেছেন। তারা অত্যন্ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন যে, যুদ্ধ শেষ হয়নি, সহিংসতা চলছে।
তারা হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান এই গোলাগুলির মধ্যে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।
লেবাননের সংসদের স্পিকার নাবিহ বেরিসহ রাজনীতিবিদরাও এখন বলছেন, এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনার কোনো অর্থই থাকে না।
এক বিবৃতি অনুসারে, গোষ্ঠীটি দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি সীমান্তবর্তী শহরে ইসরাইলি সেনা ও যানবাহনের একাধিক সমাবেশকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিন্ট জেবাইলের মুসা আব্বাস কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী এলাকা এবং হুলা গ্রামে সৈন্যদের ওপর কামান হামলা, সেইসঙ্গে বিয়াদায় একটি বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করে সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের সেনা ও সামরিক যানবাহনের ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, মুসা আব্বাস কমপ্লেক্স ও হুলা গ্রামের কাছে জড়ো হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে কামানের গোলা ছোড়া হয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরো জানায়, তারা আত্মঘাতী ড্রোনের একটি দল ব্যবহার করে বিয়াদা এলাকায় সেনা ও যানবাহনের ওপর সমন্বিত হামলা চালায়, যা ছিল এই অভিযানের শেষ ধাপ। এ ছাড়া সেনাদের বাইরে নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জামও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর মধ্যে তাইবেহ এলাকায় একটি সামরিক হামার গাড়ি এবং রিশাফ এলাকায় একটি মেরকাভা ট্যাংকের ওপর হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহর দাবি, এই দুইটি যানই আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









