ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ছায়া যুদ্ধের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ইরানকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা আরও জোরালো করতে ইরাকের নির্জন মরুভূমিতে ইসরায়েলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরির খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিটির অস্তিত্ব এক পর্যায়ে ইরাকি সেনারা আঁচ করতে পারলেও তাদের ওপর বিমান হামলা চালিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ইসরায়েলি বাহিনী। মূলত শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানে সরাসরি আকাশপথে আঘাত হানার পথ সুগম করতেই এই গোপন আস্তানা গড়ে তোলা হয়েছিল।
বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে শনিবার এ খবর দেয় ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে আগে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে বানানো ওই ঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। এটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর লজিস্টিকাল হাবের দায়িত্ব পালন করেছিল।
কোনো ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত হলে তার চালককে উদ্ধারে দ্রুত অভিযানে যেতে সক্ষম অনুসন্ধান ও উদ্ধার বাহিনীর সদস্যদেরও ওই ঘাঁটিটিতে রাখা হয়েছিল।
এ খবরের সত্যতা যাচাই করে দেখতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ সম্বন্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সাড়া মেলেনি।
মার্চের শুরুর দিকে ঘাঁটিটির অস্তিত্ব প্রায় প্রকাশ হয়ে যাচ্ছিল। সেসময় ইরাকের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্থানীয় এক মেষপালককে উদ্ধৃত করে ওই এলাকায় হেলিকপ্টারের যাতায়াতসহ অস্বাভাবিক সামরিক কর্মকাণ্ডের কথা জানিয়েছিল।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সেখানে ইরাকি সেনা পাঠানো হলেও ইসরায়েল বিমান হামলা চালিয়ে তাদেরকে ঘাঁটি থেকে দূরে রাখে, যেন তারা এর অস্তিত্ব আবিষ্কার করতে না পারে, এক সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটিই জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মার্চের শেষদিকে ইরাক জাতিসংঘে অভিযোগ দিয়ে জানায়, তাদের ওপর ওই বিমান হামলায় বিদেশি সেনারা জড়িত ছিল। হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দায়ী করেছিল তারা।
কিন্তু বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত এক ব্যক্তি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, ইরাকি সেনাদের ওপর ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল না।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









