ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর আবারও নিজের পুরোনো পেশায় ফিরলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।
ভোট পরবর্তী তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও প্রতিহিংসামূলক মামলায় কলকাতা আদালতে প্রশ্ন করতে গিয়েছিলেন তিনি। আইনজীবীর কালো কোর্ট গায়ে হাজির হন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে।
আদালতে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ছেলে ও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় প্রশ্ন করতে উপস্থিত হন মমতা। সেখানে আইনজীবী হিসেবেই প্রশ্ন করেন তিনি।
কল্যাণের পর মমতা প্রশ্ন করতে ওঠেন। হামলা, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, তাকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আদালতে মমতা জানিয়ে দেন, ১৯৮৫ সাল থেকে আইনজীবী তিনি। সেই হিসেবেই প্রশ্ন করতে চান। তিনি আরও জানান, ৯২ বছর বয়সি বৃদ্ধ থেকে ১৮ বছরের তরুণ-তরুণী, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতিদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাকেও বাড়ি থেকে বেরিয়ে পুলিশের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অনলাইনে অভিযোগ জানিয়েছেন, কিছু তাতেও কাজ হচ্ছে না।
স্পষ্ট ভাষায় মমতা বলেন, “এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।।”
তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডের পর যেভাবে শহরে বুলডোজার নামিয়ে বাড়ি ভাঙা হয়। বাড়িগুলি বেআইনি বলে দাবি।
কলকাতায় বুলডোজার চালানোরও তীব্র বিরোধিতা করে মমতা বলেন, “এটা বুলডোজার রাজ্য নয়।”
সদ্য বিবাহিত ১৮ বছরের তরুণীকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।
আদালতে কল্যাণ জানান, খেজুরি, ডোমজুড়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস, দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের ১৫০-১৬০টি কার্যালয়ে আগুন ধরানো হয়েছে, রাজ্য জুড়ে ভাঙচুর চলছে, বুলডোজারের উল্লেখও করেন।
৪০০ বছরের পুরনো হগ মার্কেটে বুলডোজার ভাঙচুরের কথাও তুলে ধরেন। বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভাঙার প্রসঙ্গে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। আবেদন জানানো হয় যে, আদালতের নির্দেশ ছাড়া যেন এ রাজ্যে বুলডোজার চালানো না হয়।
সূত্র: এবিপি আনন্দ


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









