১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ দিন চারজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত ১ জুলাই নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩ মে একই আদালত অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু করার আদেশ দেন। দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, অভিযোগ গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত মোট আটজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে।
এ দিন আদালতে সাক্ষ্য দেন নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁও সাব-রেজিস্টার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস এবং দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল হক।
মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই কর্মকর্তা গত ৩০ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়। এতে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে আসে।
বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পাওয়া গেলেও ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১১ কোটি ৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, এসব অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগও আনা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









