রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রবিবার (১৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদার।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তবে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে খুঁজে পায়নি। এর মধ্যে ২০ আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও বাকিদের প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হাসানুল হক ইনু এবং আরেক মামলায় গ্রেপ্তার আবদুর রাজ্জাককে হাজির করার জন্য এখনো প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়নি। এ কারণে তাদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে জানান প্রসিকিউশন।
পরে ট্রাইব্যুনাল হাসানুল হক ইনু ও আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিসহ নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) জমা দেওয়ার জন্য ৩ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।
এদিন সকালে মামলার নয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, জিয়াউল আহসান, শহীদুল হক, শাহরিয়ার কবির, আবদুল জলিল মণ্ডল, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং কারাগারে থাকা আসামিদের হাজিরের জন্য ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা এবং পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









