পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সহিংসতার ঘটনায় পল্লবী থানায় তিনটি এবং মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মিরপুর ১১ নম্বরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে পল্লবী থানায় আরও তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার বাদী পুলিশ এবং প্রতিটিতেই অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার সকালেও মিরপুরে বিক্ষোভের জন্য জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। সকাল ৯টার দিকে মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকা থেকে শ্রমিকদের একটি দল মিছিল নিয়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে রাস্তায় নেমে মিছিল বের করেন। আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদের আটকে দেন। শ্রমিকেরা বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়।
একই সময়ে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরেও শ্রমিকদের আরেকটি দল জড়ো হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের ধাওয়ায় শ্রমিকেরা মিরপুর-১১ নম্বরের দিকে সরে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে রোববার সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









